বরিশালের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মরদেহবাহী গাড়িও এই অনিয়ম থেকে রেহাই পাচ্ছে না, ভুক্তভোগীরা রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
বরিশালের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটে সরকার নির্ধারিত হারের বহুগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নতুন ইজারাদারের বিরুদ্ধে। সন্ধ্যার পর এই ভাড়া আরও বেশি আদায় হয়। ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগে আগে একবার ঘাটের ইজারা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু ছাত্র জনতার গণঅভ্যূত্থানের পর নিয়োগ পাওয়া নতুন ইজারাদারও জোর করে আগের চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাতিল করা হবে ঘাটের ইজারা।
বরিশাল থেকে সড়কপথে মুলাদী উপজেলা হয়ে নদীঘেরা হিজলা উপজেলা সদরে যাতায়াতে আড়িয়াল খাঁ নদীর ফেরি চলাচল শুরু হয় ২০০৪ সালে। প্রায় দেড় কিলোমিটারের এই নদীপথ পারাপারে সরকার নির্ধারিত ভাড়া গাড়ি ভেদে ৫০, ৬০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা। কিন্তু আদায় করা হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। এই বাড়তি ভাড়া থেকে বাদ যাচ্ছে না মরদেহবাহী গাড়িও।
ভুক্তভোগী এক চালক বলেন, ‘আমি লাশবাহী গাড়ি, ঢাকা থেকে নিয়ে আসছি। এখানে আমার কাছ থেকেও ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। ইজারাদার প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না যাত্রীরা।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী বলেন, ‘আগে ভাড়া দিয়েছি ৭৫ টাকা, এখন নিচ্ছে ২৫০ টাকা। প্রতিবাদ করি না ঝামেলার ভয়ে। মাইর খাওয়া লাগবে। আরেক যাত্রী বলেন, ‘প্রতিবাদ আমরা করতে পারি না। প্রতিবাদ করলে ওরা মারে। আমরা তো অন্য জেলার মানুষ।’
আরেক চালক বলেন, ‘প্রথমে ২০০ টাকা করে ভাড়া দিতাম, পরে ৩০০ এবং এখন ৪০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। কেউ কারো কথা শোনে না, টাকা তাদের দিতেই হবে। এভাবে দিনের পর দিন বাড়তি ভাড়া নেওয়া হলেও রীতিমত অসহায় যাত্রীরা।
এক যাত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত ভাড়াটা আজ পর্যন্ত দিতে পারিনি। ১০০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা দাবি করে বসে। আমরা জিম্মি হয়ে যাই। দিনের বেলাতো অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেই সন্ধ্যার পর নেয় ডাবল। এ অবস্থা চলছে তো চলছেই। বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন ইজারাদার। এ জন্য যুক্তিও দেখান তারা।
https://slotbet.online/