• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার মাদকের আসর থেকে আটক সেই পুলিশ কর্মকর্তা পালালেন থানা হেফাজত থেকে ‘যার সঙ্গে মহব্বত, তার সঙ্গেই কিয়ামত’— সহবত এখতিয়ারের আহ্বান চরমোনাই পীরের সিটিস্ক্যান মেশিনে শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রামের ঘটনা তদন্তে কমিটি পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার বরিশাল আদালত ভবন থেকে পরে যুবকের মৃত্যু বরিশালে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে জরিমানা আদায় আন্তর্জাতিক ‘বঙ্গোপসাগর সংলাপে’ ববি’র পাঁচ শিক্ষার্থী নীতিবান নেতৃত্ব ও ইসলামী শিক্ষাই পারে সংকটমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে: শায়খে চরমোনাই কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর

ভোলায় বাসা থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

এইচ আর সুমন, ভোলা প্রতিনিধি / ১১০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ভোলা জেলা শহরের উকিলপাড়া এলাকায় একটি বাসা থেকে মিতু আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ৪ জুন সকালে ওই ফ্ল্যাট বাসার পাঁচতলা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিতুর পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ঘটনার পর থেকে নিহত মিতুর স্বামী সোহাগসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। নিহত মিতু আক্তার জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বশির আহমেদের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে সোহাগের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে শহরের উকিলপাড়ায় জনৈক মজনু মিয়ার ফ্ল্যাট বাসার পাঁচতলায় মিতু ও দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ভাড়া ছিলেন সোহাগ। ওই বাসায় সোহাগের মা ও ভাই-বোন থাকতেন।

নিহত মিতু আক্তারের মা আয়শা, চাচা লোকমান ও বাবা বশির আহমেদ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মিতুর ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাতেন স্বামী সোহাগ। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মিতুর পরিবার বিভিন্ন সময় নগদ অর্থ, টিভি, ফ্রিজসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজিয়ে দিলেও সোহাগের নির্যাতন বন্ধ হয়নি। মিতুর ওপর চলমান নির্যাতন নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে। একপর্যায়ে বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও মিতুর ওপর স্বামীর নির্যাতন থামেনি।

সকালে স্বামী সোহাগ তাঁর শাশুড়িকে ফোন করে জানান, মিতু গুরুতর অসুস্থ, তাঁকে দ্রুত আসতে হবে। ফোন পেয়ে মিতুর বাবা-মা, চাচাসহ আত্মীয়স্বজন শহরের উকিলপাড়া এলাকার ওই বাসায় এসে বিছানায় মিতুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে স্বামী সোহাগ ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসা থেকে পালিয়ে যান। ওই বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল বুধবার রাতে সোহাগের মা ও ভাই-বোন ওই বাসায় অবস্থান করলেও আজ সকালে তাঁরা সবাই পালিয়ে যান। পুলিশ দুই বছরের মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

নিহত মিতুর পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বামী সোহাগ, তাঁর মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মিতুর পরিবার থেকে জানান তারা এ বিষয়ে থানায় হত্যা মামলা করবে।তারা এ হত্যার বিচার চায়।

ভোলা সদর মডেল থানা সুত্রে জানা যায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে আমরা পোস্টমর্টেমের জন্য ভোলা সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না। তবে, ঘটনার পরপরই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’

সন্ধা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় নিহত মিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি বলে জানান ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক মো. জিয়াউদ্দিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/