বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে বাছাই করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ৭ জন। তবে ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, ওই ৭ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন ভুগোলে (ভূগোল) এবং চারজন ইতিহাস বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অথচ বাংলা ও গণিতের মতো কঠিন বিষয়েও তারা উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা, অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি প্রভাষক শাহাদাত হোসেন জানান, ২০০১ সালে ওই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ‘পশ্চিম রতনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের নাম যুক্ত করে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় ‘পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পাঠদানের অনুমতি থাকলেও বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পান না। এ কারণে অধিকাংশ শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। মাত্র ৬ থেকে ৭ জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।
শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, “৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে আমরা বাছাই করে সাতজনকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি। তারা পিএসসি ও জেএসসিতে ভালো ফলাফল করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনজন ভূগোল ও চারজন ইতিহাসে ফেল করেছে। বাংলা ও গণিতের মতো বিষয়েও তারা পাস করেছে। অথচ ইতিহাস ও ভূগোলে কীভাবে সবাই ফেল করল, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বর্তমানে শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মহিউদ্দিন বলেন, “বিদ্যালয়টি নন-এমপিও হওয়ায় শিক্ষকদের নিয়োগ ও বেতন-ভাতার বিষয়টি সভাপতি ও সংশ্লিষ্টরা দেখছেন। বেতন-ভাতা না থাকায় অনেক শিক্ষক কর্মস্থলে আসেন না বলে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
https://slotbet.online/