বরিশাল নগরীতে একের পর এক স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় যখন অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ দাসের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের রাতে তাকে নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দেন এক রিকশাচালক। যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিখোঁজ সৌরভ দাস বরিশাল কালেক্টর স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মে রাতের দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ মিলছে না।
ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে সামনে এসেছেন রিকশাচালক সুমন। তিনি জানান, ওই রাতে সৌরভ একাই তার রিকশায় ওঠে এবং নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার কথা বলে। সেখানে পৌঁছে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং তখন তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না। সুমনের এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, বাসস্ট্যান্ডই হতে পারে সৌরভের শেষ অবস্থান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌরভ অত্যন্ত শান্ত ও নিয়মিত স্কুলগামী শিক্ষার্থী ছিল। তার এমন হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কোথায় আছে, কেমন আছে কিছুই জানি না। আমরা শুধু চাই, আমাদের ছেলেটাকে দ্রুত খুঁজে দেওয়া হোক, বলেন তার এক স্বজন।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন পরিবহন চালক ও পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বরিশাল নগরীতে সম্প্রতি অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে আসায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। অনেকেই সন্তানের চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করেছেন।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনার দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত না হলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। তারা দ্রুত নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধান ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
https://slotbet.online/