• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ৫ জনকে পটুয়াখালীতে দাফন

হারুন অর রশিদ, বাউফল প্রতিনিধি / ১২ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে নিহত স্ত্রী-সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে তারা দগ্ধ হয়েছিলেন।

শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের কনকদিয়া গ্রামের উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চারজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত মানুষ অংশ নেন।

পরে গৃহকর্তা মীর কালামের কবরের পাশেই তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে দাফন করা হয়। এ সময় পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন।

একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় শোকাহত পুরো গ্রাম।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রোববার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

দগ্ধ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের চান্দে আলীর ছেলে মীর কামাল (৪৫)। এরপর বুধবার মারা যায় কামালের ছোট মেয়ে কথা (৪)।

বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় একমাত্র কামালের ছেলে মুন্না (৭) এবং দুপুরে মারা যায় বড় মেয়ে মুন্নি (১০)। সবশেষ শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্ত্রী সায়মা বেগম (৩৫)।

শনিবার সকালে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। জানাজা শেষে মীর কামালের কবরের পাশেই স্ত্রী ও সন্তানদের দাফন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, অত্যন্ত পরিশ্রমী, বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কামাল। অল্প আয়েও পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। গ্রামের বাড়িতে নিজের একটি ঘর নির্মাণ ছিল তার বহুদিনের স্বপ্ন। ঘরও নির্মাণ করেছিল কামাল। কিন্তু সেই ঘরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করা হল না তার।

কালামের চাচাতো ভাই মীর রফিক বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনকে হারিয়ে সবাই শোকে স্তব্ধ। গ্রামের মানুষ মিলে দাফনের সব ব্যবস্থা করেছে।

“ঈদের সময় পরিবার নিয়ে বাড়ি আসার কথা ছিল কামালের। কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি”, বলেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সবাই শোকাহত।

সংসদ সদস্য সফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকায় তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। লাশ পটুয়াখালীতে নিয়ে আসার জন্য যা যা করা দরকার সেগুলোর ব্যবস্থা করেছি। একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু আমাদেরকে অনেক কষ্ট দিয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/