• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

ভোলায় হামের প্রকোপ : হাসপাতালে ভর্তি অর্ধশতাধিক শিশু

ভোলা জেলা প্রতিনিধি / ১৬ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে ভোলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। সদর হাসপাতালে বর্তমানে অর্ধশতাধিক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আট শিশু এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনের দোতলার একটি অংশে চালু করা হয়েছে হাম বিভাগ। এখানে মাত্র ১৮টি শয্যায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে হাম রোগীদের। আজ সরেজমিনে দেখা গেছে, বেডসংকটের কারণে বহু শিশু মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এতে শিশু রোগীরা আরও বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানান রোগীর স্বজনেরা।

হাম বিভাগের বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে চার বছরের শিশু আফসানা। তার পাশেই বেডে বসে আছেন শিশুটির মা বিবি মরিয়ম। সন্তানের বেডের পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন শিশুর বাবা মো. সাগর। ভোলা সদর উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর গ্রামের কৃষক মো. সাগর বলেন, ‘আমার মেয়ে আফসানা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলে ৪ মে (সোমবার) সদরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। গত তিন দিনে আমার মেয়ের শুধু জ্বর কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া আর কোনো উন্নতি দেখছি না।’ সাগর বলেন, যদি মেয়ের উন্নতি না হয়, তাহলে ভোলা হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলছেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে শয্যা না পেয়ে হামে আক্রান্ত আট মাসের শিশু ইয়াছমিনকে কোলে নিয়ে হাঁটছিলেন মা তানিয়া। সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস সহিদের স্ত্রী তানিয়া জানান, তাঁর সন্তানকে চার দিন আগে এ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ইয়াছমিনকে।

হাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স আসমা বেগম বলেন, হামের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাম বিভাগে আজ সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত নতুন আটজন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের সবাই শিশু। এর মধ্যে অন্য ওয়ার্ড থেকে এসে ভর্তি হয়েছে চারজন। চিকিৎসা শেষে ছুটি দেওয়া হয়েছে সাতজনকে। অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে দুজনকে। তবে চিকিৎসাধীন একজনকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত ৫২ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান আসমা বেগম।

ভোলায় হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার কথা স্বীকার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আরাফাতুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, হামের উপসর্গে আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। তাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার কোনো ঘাটতি নেই। তবে বেডের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান বলেন, হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে তীব্র জনবল সংকটের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হাম রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক ও নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সিভিল সার্জন মু. মনিরুল ইসলাম বলেন, ভোলা জেলায় হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। হাম উপসর্গ নিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আজ চারজন রোগী ভর্তি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/