• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন

বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে বরিশালের শিপইয়ার্ড-ডকইয়ার্ড

অনিকেত মাসুদ / ৩৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

নানা সংকটে বিলুপ্তি হওয়ার পথে বরিশালের অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণশিল্প। এক সময় কীর্তনখোলা নদীর তীরে পাঁচটি শিপইয়ার্ডে দিনরাত চলত সুবিশাল যাত্রীবাহী লঞ্চ তৈরির কর্মযজ্ঞ, তা এখন পুরোপুরি বন্ধ। ছোট-বড় জাহাজ মেরামতের জন্য হাতেগোনা দু-একটি ডকইয়ার্ড টিকে থাকলেও তাতে নেই মেরামতের চিরচেনা টুংটাং শব্দ। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার এই শিল্প এখন পুরোপুরি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক।

জানা গেছে, ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর নৌপথে যাত্রী সংকট এবং কাঁচামালের মূল্য বাড়ার প্রভাবে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে এখানকার ডজনখানেক শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ড। দেশের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ সুন্দরবন-১৬ তৈরি হয়েছিল বরিশালের শিপইয়ার্ডেই। শুধু তাই নয়, ঢাকা-বরিশালসহ দূরপাল্লার রুটের বিলাসবহুল ডাবল ডেকার লঞ্চগুলোর অধিকাংশই বানানো হতো এখানে।

তথ্যমতে, ষাটের দশকে সুরভী শিপিং লাইন্সের মালিক লঞ্চ ব্যবসায়ী প্রয়াত গোলাম মাওলার হাত ধরে বরিশালে এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে নগরীর বেলতলা, দপদপিয়াসহ কীর্তনখোলার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠে সুরভী, সুন্দরবন, নিজাম, এম খান ও কে-কাদেরের মতো বৃহৎ শিপইয়ার্ড। পদ্মা সেতু চালুর আগেও এসব শিপইয়ার্ড থেকে বছরে অর্ধডজনের বেশি নতুন লঞ্চ নদীতে ভাসানো হতো, যার প্রতিটির নির্মাণব্যয় ছিল ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা। কিন্তু এখন সেই সোনালি অতীত কেবলই স্মৃতি।

এছাড়া নগরীর কেডিসিসংলগ্ন চাঁদমারী এলাকা ও বরিশাল সদর উপজেলার ছোট নৌযান নির্মাণ-মেরামতের অর্ধডজনের বেশি ডকইয়ার্ডের অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। হাতেগোনা দু-একটি টিকে থাকলেও তাতে কোনো কাজ নেই। পাঁচ বছর আগে সুন্দরবন শিপইয়ার্ড থেকে দেশের সবচেয়ে বড় লঞ্চ ‘সুন্দরবন-১৬’ নদীতে নামানো হয়। নৌযান নির্মাণকাজ না থাকায় শুধু এই একটি শিপইয়ার্ডেরই ২০০ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। সবশেষ ২০২৪ সালের শুরুতে এম খান শিপইয়ার্ড থেকে ‘এম খান-৭’ নামে একটি লঞ্চ নদীতে নামার পর বরিশালের সব শিপইয়ার্ডে নৌযান নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সুরভী শিপইয়ার্ড বন্ধ হয়ে পড়ে থাকার পর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শিপইয়ার্ডের একসময়ের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন লঞ্চ তৈরির শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছি। এখন বেকার দিন কাটাচ্ছি। আমার মতো হাজারও শ্রমিক কাজ হারিয়ে দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

সুন্দরবন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক সোহাগ হাওলাদার বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর হু-হু করে নৌপথে যাত্রী কমে গেছে। এছাড়া কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে নতুন লঞ্চ নির্মাণ হচ্ছে না। তাই শিপইয়ার্ড পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। কাজ না থাকায় শ্রমিকদের বিদায় করে দিতে বাধ্য হয়েছি। বর্তমানে চরম দুর্দিনে রয়েছে এই শিল্প।

সুরভী শিপইয়ার্ডের পরিচালক রেজিন-উল কবির বলেন, আমাদের বৃহৎ শিপইয়ার্ডটি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। নৌপথে যাত্রী না থাকায় নতুন লঞ্চ তৈরি হচ্ছে না। মালিকরা কোটি কোটি টাকা লোকসানে আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/