• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীতে বৃষ্টির পানিতে মাঠেই পঁচে যাচ্ছে কৃষকের ফসল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি / ৪৫ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

প্রবল বৃষ্টিবর্ষণে পটুয়াখালী জেলার ৮টি উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২১ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত অতিবৃষ্টিতে মুগডাল, সূর্যমুখী, বোরো ধান, চিনা বাদাম, ভুট্টা, মিষ্টি আলু, তিল ও সয়াবিনসহ রবি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মাঠেই পচে যাচ্ছে ফসল। পানি জমে বেশি ক্ষতি হয়েছে মুগ ডাল, সূর্যমুখী এবং বোরো ধানের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মুগ ডাল চাষীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে মুগ ডালসহ মোট ফসলের মাত্র ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আক্রান্তের পরিমাণ অনেক বেশি। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে পারে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানিয়েছেন, চলতি বছর মুগ ডালের বীজ বপনের পর যথাসময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় চারা গজাতে বিলম্ব হয়ে। এবারের বীজ বিএডিসি থেকে সরকারীভাবে ক্রয় করা। কৃষকদের কথা শুনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্যানুযায়ী, এ বছর পটুয়াখালী জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ৮৬ হাজার ২১৬ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল বপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ হাজার হেক্টর জমি অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে।

৩ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৫ হেক্টর জমি পুরোপুরি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পঁচে গেছে। বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ১১ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা।

এছাড়া মিষ্টি আলু ১ হাজার ৯৭৬ হেক্টর, ভূট্টা ৮৪০, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ৪১০, পাট ২০, পেঁপে ৮০, কলা ১০০, পান ৭০০, চিনা বাদাম ৬ হাজার ৭৫৯, মরিচ ৬ হাজার ২৩৩, ফেলুন ৪ হাজার ২২৬, মিষ্টি আলু ১ হাজার ৯৭৬, ভুট্টা ৮৪০, সয়াবিন ২২ হেক্টর এবং তিল চাষ হয়েছে ১০৪ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে অধিকাংশ ফসলি জমি এখনো পানিতে তলিয়ে আছে।

কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুগ ডাল চাষী মালেক সিকদার (৬৫) জানান, এ বছর ১ একরের বেশি জমিতে মুগ ডাল চাষ করেছি, ফলনও ভালো ছিল। বৃষ্টির জমে থাকা পানি সব শেষ করে দিয়েছে। একমুঠো ডালও আর ঘরে তুলতে পারব না।

বহালগাছিয়ার চাষী নূর মোহাম্মদ খান (৬০) জানান, ১ একর জমিতে ৭ হাজার টাকা খরচ করে মুগডালের চাষ করেছি। মাত্র একবার ক্ষেত থেকে ডাল তুলতে পেরেছি। এখন বৃষ্টির পানি জমে যাওযায় ডাল তোলা আর সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, বোরো ধানের চাষ করেছি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছিলো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ধান নুয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। এতে জমে থাকা পানিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, আক্রান্তের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে আরো সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে তারা প্রণোদনা পেতে পারেন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/