• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:২৫ অপরাহ্ন

লিটারে ৪ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম

দর্পন ডেস্ক / ২৩ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ১৯৫ টাকা থেকে চার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা তেলও লিটারে ১৭৫ টাকা থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বেই পণ্যের উৎসে মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আমরা আশা করি আমাদের ভোক্তা বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি দেখবেন। এতে বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতিও আগের চেয়ে স্বাভাবিক হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উৎস পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়েছে। যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রভাব সরাসরি পড়ে।

সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় এর মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেশীয় বাজারেও এসেছে।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান মাস থেকেই আমদানিকারক ও রিফাইনাররা মূল্য সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট খরচ যাচাই করে দেখেছি তাদের দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে তাদের প্রস্তাবিত পুরো পরিমাণ বৃদ্ধি না করে আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে একদিকে যেমন রিফাইনারদের লোকসান কমবে, অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন নির্ধারিত মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একইসঙ্গে বাজারে খুচরা পর্যায়ে মূল্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দাবি করেন, বর্তমান মূল্য কাঠামোতে তাদের এখনো লোকসান হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, রিফাইনিং খরচসহ বিভিন্ন ধাপের ব্যয় যুক্ত করে মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।

তারা বলেন, আমরা যে ফর্মূলা অনুসরণ করে দাম নির্ধারণ করি তা সবার জন্য উন্মুক্ত। আন্তর্জাতিক বাজারদর, ফ্রেইট, খালাস ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় যোগ করলেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। এখানে কোনো গোপনীয়তা নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিনির্ভর এই পণ্যের স্থানীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ভোজ্যতেল খাতে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/