• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

ফিস ফ্রাই মার্কেট পর্যটকের বিনোদনের নতুন আকর্ষণ

কলাপাড়া প্রতিনিধি / ১৮ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটার একটি জনপ্রিয় স্থান “ফিস ফ্রাই মার্কেট “। প্রতিদিনই শত শত পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে বসে উপভোগ করেন তরতাজা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ। সূর্য ডোবার পর পরই ফিস ফ্রাই মার্কেটটি যেন হয়ে ওঠে আরেকটি ভিন্ন জগৎ।
সৈকতের জিরো পয়েন্টে থেকে পূর্ব দিকে এ ফিস ফ্রাই মার্কেটের অবস্থান। সন্ধ্যা নামতেই সারি সারি দোকানগুলোতে জ্বলে ওঠে রং বেরং’র বৈদ্যুতিক বাতি। সামনেই সাজানো লইট্টা, টুনা, সামুদ্রিক বেলে,লাক্কা, কোরাল, ইলিশ, রুপচাঁদা, চিড়িং, কাঁকড়া সহ সামুদ্রিক মাছ। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী এসব মাছ সঙ্গে সঙ্গে ভেজে বা গ্রিল করে পরিবেশন করা হচ্ছে।
এদিকে গভীর রাত পর্যন্ত পোড়া মাছের গন্ধে পর্যটকদের টেনে নিয়ে যায় বারবিকিউ জোনে। সমুদ্রের ঢেউ আর গরম গরম মাছ ভাজার ঘ্রাণ, সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে এনে দিচ্ছে ভিন্নধর্মী এক স্বাদের অভিজ্ঞতা।
সরজমিনে দেখা যায়,এই মার্কেটটিতে প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত থাকে । বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়।
পর্যটকদের ভ্রমনকে আরও আনন্দময় করে তুলছে পোড়া মাছের গন্ধ। বিশেষ  মসলার সংমিশ্রনে তৈরি খাবার পর্যটকদের মন জয় করছে। একপাশে বারবিকিউ অসাধারণ আয়োজন,অন্য পাশে গানের আড্ডা বা খোশগল্পে সময় পার করছেন আগত পর্যটকরা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় কুয়াকাটার এই ফ্রাই মার্কেট ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাইট ফুড ডেস্টিনেশনে পরিণত হতে পারে। ইতোমধ্যেই এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো নুরুন্নবি বলেন, বাজারের পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে কিছুটা অসন্তোষও রয়েছে। যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এই মার্কেট আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
সিলেট থেকে আসা পর্যটক সানজিদা আক্তার বলেন, কুয়াকাটার সমুদ্র দেখার পর এই ফ্রাই মার্কেটে এসে খাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। এছাড়া পরিবেশ, স্বাদ-সবকিছু মিলিয়ে এটি এক অনন্য অনুভূতি।
পর্যটক আরিফুর রহমান বলেন, কুয়াকাটায় এসে ফিস ফ্রাই না খেলে মনে হয় কিছু একটা মিস করছি। সারাদিন ঘোড়া ঘুরির পর তারা সন্ধ্যায় ফিস ফ্রাই মার্কেটে গিয়ে তরতাজা মাছের অর্ডার দেয়। মাছগুলো চোখের সমনেই ভেজে দিয়েছেন। এখানে অনেক সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের সবাই মিলে বেশ উপভোগ করেছি।
হলিডে ফিস ফ্রাই এর স্বত্বাধিকারি সাগর জানান, বাজার থেকে সবচেয়ে তাজা এবং ভালো মাছগুলো আমরা ক্রয় করে নিয়ে আসি। সেগুলোই পর্যটকদের চাহিদা মত পরিবেশন করে থাকি।
কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মালিক সমিতির সভাপতি কাওছার আহম্মেদ বলেন, কুয়াকাটায় তার হাত ধরেই এই বারবিকিউর যাত্রা শুরু  হয়েছে । আগত পর্যটকদের সন্ধ্যার পর বিনোদনের কোন কিছু থাকেনা। তাই তারা কিছুটা সময় ফিস ফ্রাই মার্কেটে এসে সময় কাটায়। আমরাও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, কুয়াকাটার বারবিকিউ এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। যা পর্যটকদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ কুয়াকাটা টোয়াক’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন,  সমুদ্রের ঢেউ আর গরম গরম মাছ ভাজার ঘ্রাণ, সব মিলিয়ে কুয়াকাটার ফিস ফ্রাই মার্কেটটি অন্যতম আকর্ষণী স্থানে পরিণত হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন, আসেই এই ফিস ফ্রাই মার্কেটটি পর্যটকের জন্য খুব সুন্দর স্হান,একদিকে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নেওয়াও হল অন্যদিকে বিনোদনও হল।তবে পরিবেশ সুন্দর ও মুলয় সঠিকভাবে নির্ধারনের ব্যাপারে আমার নজরদারি আছে এবং ভবিষ্যতেও আরো খেয়াল রাখা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/