• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন

অসহায় রোগীদের সেবা দিয়ে খেতাব পেয়েছেন গরীবের ডাক্তার

হাসান মাহমুদ, গৌরনদী / ৮ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলেও অনেকেই ব্যক্তি কিংবা পেশাগত জীবনে সুখ্যাতি অর্জন করতে পারেন না। তবে এদের মধ্যে কেউ কেউ তার নিজ কর্মগুনে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পেয়ে যান নানান উপাধী। তেমনি একজন চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে বরিশালের গৌরনদীতে।

অসহায় মানুষের চোখের সাধারণ চিকিৎসা দিয়ে খেতাব পেয়েছেন গরীবের ডাক্তার। গরীবের ডাক্তার হিসেবে খেতাব পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম খলিল। তিনি গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আই কেয়ার ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে ইব্রাহিম খলিল দীর্ঘদিন ধরে খাঞ্জাপুর ও আশপাশের এলাকার অসহায় চক্ষু রোগীদের সাধারণ সমস্যা চিহ্নিত করে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে আসছেন। এরইমধ্যে তার কাছ থেকে সেবা পেয়ে এলাকার সাধারণ চক্ষুরোগীরা ব্যাপক উপকৃত হয়েছেন। যে কারনে স্থানীয়ভাবে গরীবের ডাক্তার হিসেবে আশেপাশের এলাকায় তার সুনাম ছড়িয়ে পরেছে।

শনিবার বিকেলে ভুরঘাটা আই কেয়ার ভিশনে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শাহনাজ পারভীন নামের এক নারী বলেন, লোকের মাধ্যমে জানতে পেরে এই ভিশন সেন্টারে চিকিৎসা নিতে এসেছি। আমার আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ থাকার কথা বলার পর আমাকে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি যে সমস্যা নিয়ে তার কাছে এসেছি সেই সমস্যা নিয়ে জেলা শহরে চিকিৎসা নিতে গেলে অনেক খরচ হতো। যা আমার দ্বারা কোনদিনও সম্ভব ছিলোনা। আমি অস্বচ্ছল হওয়ায় টাকা না দিয়েই সেবা গ্রহন করতে পেরেছি।

গৌরনদী পৌর এলাকার গেরাকুল গ্রামের বাসিন্দা ইয়াদুল প্যাদা বলেন, ধান মাড়াইয়ের সময় অসাবধানতাবশত আমার চোখে ধান গিয়ে মারাত্মকভাবে চোখের মনিতে আঘাতপ্রাপ্ত হই। পরবর্তীতে আমাকে প্রথমে বরিশাল ও পরে ঢাকার চক্ষু হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকেরা অপারেশনের পরামর্শ দেয়। কিন্তু আমার অসহায় পরিবার অর্থাভাবে অপারেশন করাতে না পেরে আমাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পরবর্তীতে গ্রামের এক লোকের পরামর্শে আমি ভুরঘাটার আই কেয়ার ভিশনে গিয়ে ইব্রাহিম খলিল নামের চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হই। তিনি সকল সমস্যার কথাশুনে আমাকে চিকিৎসা সেবা দেয়। নামমাত্র মূল্যে তার (ইব্রাহিম খলিল) চিকিৎসা নিয়ে আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ্য হয়েছি। এখন আর আমার চোখে কোন সমস্যা নেই। ইয়াদুল প্যাদা আরও বলেন, আসলেই ইব্রাহিম খলিল একজন গরীবের ডাক্তার।

খাঞ্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় আই ভিশন সেন্টারটি থাকায় এলাকার দরিদ্র চক্ষুরোগীদের পাশাপাশি দুরদুরান্ত থেকে আসা সাধারণ চক্ষু রোগীরা ব্যাপক উপকৃত হচ্ছেন।

এবিষয়ে আই কেয়ার ভিশন সেন্টারের মালিক ইব্রাহিম খলিল বলেন, মিড-লেভেল অপথ্যালমিক পার্সোনেল (এমএলওপি) চক্ষু চিকিৎসার সহায়ক কোর্স করে আই কেয়ার ভিশন সেন্টারের মাধ্যামে চোখের সাধারণ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছি। সেন্টারে প্রতিদিন ২০/৩০ জন রোগী তাদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসেন। এরমধ্যে দরিদ্র রোগীদের বিনামুল্যে সেবা প্রদান করা হয়। বাকিদের কাছ থেকে নামমাত্র ফি নিয়ে সেবা প্রদান করা হয়।

তিনি আরো বলেন, ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে যতোটুকু সেবা প্রদান করা সম্ভব ততোটুকু সেবাই প্রদান করা হচ্ছে। এখানে জটিল কোন রোগী আসলে তাদেরকে অন্যত্র প্রেরণ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/