বিনয় ভূষণ এর তৈরি বেত বাশের পন্য এখন বিশ্ববাজারের।
তাই প্রত্যান্ত বাঘার গ্রামের নাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। কারণ, এখানকার বাঁশের তৈরি পণ্য শুধু দেশে নয়, পৌঁছে যাচ্ছে বিদেশের বাজারেও।
যে বাঁশ কেবল বাড়ির বেড়া কিংবা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হতো, সেই বাঁশ এখন চলে যাচ্ছে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে। যিনি কিশোর বয়সে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, সেই বিনয় ভূষণ বেপারী আজ বিদেশে পৌঁছে দিচ্ছেন গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য।
বাবা, বাঁশের তৈরি ঝুড়ি ফেরি করে ১১ জনের সংসার চালাতেন ,? আর তখনই গৌরনদী উপজেলার বাঘার গ্রামের এই কিশোর নবম শ্রেণির পড়ুয়া বিনয় ভূষণ তখন স্কুল ছেড়ে, বাবার পাশে দাঁড়ালেন।
শুরু হলো বিনয়ের এক দীর্ঘ যাত্রা। বাবার বানানো বাঁশ-বেতের ঝুড়ি কাঁধে নিয়ে গ্রাম থেকে শহরে হেঁটে বিক্রি করতেন বিনয় ভূষণ। ফেরিওয়ালার এই পথ তো কেবল বেঁচে থাকার। তাই জীবনকে বড় পরিসরে দেখেছিলেন তিনি ।
১৯৭৫ সালে আগৈলঝড়ার সরকারি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে এক হাজার ৭৫০ টাকা বেতনে প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরি করতেন বিনয় ভূষণ ।অবসর সময়ে উপজেলার কাঠিরা গ্রামের তপন বিশ্বাসের কাছ থেকে ২টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে তার সঙ্গে বিদেশে নান্দনিক ঝুড়ি পাঠাতেন তিনি । সেই থেকে স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি।
বন্ধু তপনের হাত ধরেই অন্তত ২০টি দেশে কুটিরশিল্প রপ্তানি করত। বিদেশে রপ্তানীকারক সংগঠন বাংলা ক্রাফটের সদস্য অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলেন বিনয় ভুষণ। ফিলিপাইন ও ভারতে মাস্টার ট্রেনারদের কাছ থেকে এক বছরের প্রশিক্ষণ নিলেন তিনি ।
১৯৮২ সাল থেকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তার হাতের তৈরি ফলের ঝুড়ি, চায়ের ছাকনি, সাপুড়ে বাস্কেট, কানের দুল, চুলের ব্যান্ড, পাখির বাসা, কলমদানি কিংবা ল্যাম্পশেড পৌঁছে যাচ্ছে ইতালি, জাপান, আমেরিকা, চীন ও থাইল্যান্ডে।
সেদিনের ফেরিওয়ালা বিনয় ভূষনের মাসিক ৩ হাজার টাকা থেকে বাঘার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষন কেন্দ্রর ১০জন রপ্তানীকারকের মাধ্যমে এখন মাসিক আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ।
ছোট্ট গ্রাম বাঘার এখন বাঁশ-বেত শিল্পের প্রাণকেন্দ্র।
https://slotbet.online/