২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে গতকাল সোমবার পর্যন্ত একজনও ছেলে পরীক্ষার্থী নেই। শিক্ষা বোর্ডের ভুলে এবছর বোর্ডের সকল পরীক্ষার্থীকে মেয়ে শনাক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি নিবন্ধন কার্ড (রেজিষ্ট্রেশন) কলেজে পৌছালে এ ত্রুটি ধরা পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে নিবন্ধন কার্ড ছাপানোর উদ্যেগ নিয়েছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বরিশাল শিক্ষবোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনুস আলী সিদ্দিকী এ ভুলের কথা স্বীকার করেছেন।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড-এর অধীন ছয় জেলার বিভিন্ন কলেজে বিতরণ করা রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ছেলে ও মেয়ে—সব পরীক্ষার্থীর লিঙ্গ ‘Female’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই বরিশাল নগরীসহ বিভাগজুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কলেজ প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি শুধু একটি বানান ভুল নয়; বরং পরিচয়গত গুরুতর ত্রুটি।
শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম রোহান বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ভবিষ্যতে সনদ তৈরির ভিত্তি। এখানে ভুল থাকলে সারাজীবন ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। আরেকজন পরীক্ষার্থী ফারহান ও তানিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরি কিংবা বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এমন তথ্যগত ভুল বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো ৮১ হাজার ৮৩১জন। এর মধ্যে ছেলে ৩৭ হাজার ৯৪৪জন এবং মেয়ে ৪৩ হাজার ৮৮৭জন। শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্ডে সকলকে লিঙ্গ হিসাবে ‘ফিমেল’ উল্লেখ করা হয়েছে।
মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ দেলওয়ার হোসেন জানান, তার কলেজে এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৮৬৮ জন। তার মধ্যে ছাত্র ৪২৩ জন। রেজিষ্ট্রশন কার্ডে সকল পরীক্ষার্থীকে ফিমেল চিহিৃত করা হয়। ভুল সংশোধনের জন্য রেজিষ্ট্রেশন কার্ড বোর্ডে প্রেরন করেছেন।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আক্তারুজ্জামান খান বলেন, তার পরীক্ষার্থ প্রায় ১ হাজার। সকলের নিবন্ধন কার্ডে ফিমেল লেখা হয়েছে। আমরা সংশোধনের জন্য পাঠাবো। নতুন করে রেজিস্ট্রেশন কার্ড করে নিতে হবে।
বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড, শেষ মো: তাজুল ইসলাম বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে ২০০ জনের পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ছেলে-মেয়ে সকলের ফিমেল লেখা এসেছে। আমরা সোমবার সংশোধনের জন্য বোর্ডে পাঠিয়েছি।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়াারম্যান প্রফেসর মো: ইউনুস আলী সিদ্দীকী এ প্রসঙ্গে বলেন, সকল পরীক্ষার্থী নয়, ছেলে পরীক্ষার্থী ৩৭ হাজার ৯৪৪জনের মধ্যে ৩০ হাজারের মতো রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ভুলে ফিমেল লেখা হয়েছে। সার্ভারে ভুল করায় এমনটা হয়েছে। এখন নতুন করে ছাপিয়ে সংশোধন করে দিচ্ছি। ঢাকা থেেক রেজিষ্ট্রেশন কার্ড ছাপানো হয়েছিল। তারাই সংশোধন করে দিবে।
https://slotbet.online/