ঝালকাঠি–২ (নলছিটি ও ঝালকাঠি সদর) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নীরবে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। ক্ষমতাধর দল ও পরিচিত মুখের প্রার্থীদের ভিড়ের মাঝেও সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর নাম। মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গণসংযোগ, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে এই আসনে তিনি ধীরে ধীরে একটি শক্ত ভোটব্যাংক তৈরি করছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নলছিটি ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, হাটবাজার, চায়ের দোকান, মসজিদের উঠান কিংবা গ্রামীণ আড্ডায় নির্বাচনী আলোচনা শুরু হলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছেন সিরাজুল ইসলাম সিরাজী। অন্য প্রার্থীদের পোস্টার ও ব্যানারের পাশাপাশি সিরাজীর নাম উচ্চারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে—যা নির্বাচনী মাঠে একটি ব্যতিক্রমী চিত্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই সিরাজী নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে রয়েছেন। বড় শোডাউন বা ব্যয়বহুল প্রচারণার পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন সরাসরি মানুষের কাছে যাওয়ার পথ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময়, সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সঙ্গে এক ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এক ধরনের অনাস্থা—যা প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ফল। অনেক ভোটারই বলছেন, বারবার একই ধরণের রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হলেও এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি, বরং বেড়েছে দুর্নীতি ও বৈষম্য।
নলছিটি উপজেলার নাচন মহল এলাকার ভোটার কামরুল ইসলাম বলেন,
“আমরা অনেককে সুযোগ দিয়েছি, কিন্তু পরিবর্তন দেখিনি। এবার ভোট দিতে চাই আদর্শের পক্ষে। সিরাজী সাহেবকে আমরা সৎ ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবে জানি।”
একই এলাকার এক বৃদ্ধ ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টাকা আর প্রভাবের রাজনীতি দেখে আমরা ক্লান্ত। এই লোকটা (সিরাজী) অন্তত মানুষের কথা শুনে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নওমুসলিম হিসেবে পরিচিত মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই তিনি এলাকায় ব্যক্তিগত সততা ও নৈতিক অবস্থানের কারণে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করেন, তার এই জীবনপথই তাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জনপ্রিয়তার পেছনে বড় কারণ হলো—তিনি এখনো পর্যন্ত কোনো বিতর্ক, দুর্নীতির অভিযোগ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত নন। ফলে ভোটারদের কাছে তিনি ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির’ প্রার্থী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
তবে অনুসন্ধানে এটিও উঠে এসেছে যে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে বড় দলগুলোর মতো শক্ত সাংগঠনিক ও আর্থিক সক্ষমতা রাখে। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও ভোটের পরিবেশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবুও মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, সংগঠনের সীমাবদ্ধতাকে পুষিয়ে দিচ্ছে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। অনেক জায়গায় প্রচারণা চালাচ্ছেন সাধারণ মানুষই—নিজ উদ্যোগে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে ঝালকাঠি–২ আসনে এবার ‘নীরব ভোট’ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই নীরব ভোটের একটি বড় অংশ যেতে পারে সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর ঝুলিতে। এতে করে প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে অনুসন্ধানে স্পষ্ট, ঝালকাঠি–২ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হতাশা থেকে মুক্তি খোঁজা ভোটারদের একটি প্রতীক। শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে এই জনমতের প্রতিফলন কতটা ঘটে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
https://slotbet.online/