পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পে স্কেল সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। তাই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নতুন পে স্কেলে তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বুধবার (২০ মে) ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। নবম পে স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয় বরং এর সঙ্গে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সবাই অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।
কমিশনের সুপারিশ কাটছাঁট করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি।’
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা।
সর্বনিম্ন মূল বেতন হিসেবে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার জোর সুপারিশ রয়েছে (১০০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি)। অন্যদিকে সর্বোচ্চ মূল বেতন হিসেবে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ (গ্রেড অনুযায়ী তালিকা)
নিচে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো, যা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে:
গ্রেড বেতন স্কেল (টাকা)
০১ ১,৬০,০০০/- টাকা (নির্ধারিত)
০২ ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০ টাকা
০৩ ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০ টাকা
০৪ ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০ টাকা
০৫ ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০ টাকা
০৬ ৭১,০০০ – ১,৩৪,০০০ টাকা
০৭ ৫৮,০০০ – ১,২৬,৮০০ টাকা
০৮ ৪৭,২০০ – ১,১৩,৭০০ টাকা
০৯ ৪৫,১০০ – ১,০৮,৮০০ টাকা
১০ ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০ টাকা
১১ ২৫,০০০ – ৬০,৫০০ টাকা
১২ ২৪,৩০০ – ৫৮,৭০০ টাকা
১৩ ২৪,০০০ – ৫৮,০০০ টাকা
১৪ ২৩,৫০০ – ৫৬,৮০০ টাকা
১৫ ২২,৮০০ – ৫৫,২০০ টাকা
১৬ ২১,৯০০ – ৫২,৯০০ টাকা
১৭ ২১,৪০০ – ৫১,৯০০ টাকা
১৮ ২১,০০০ – ৫০,৯০০ টাকা
১৯ ২০,৫০০ – ৪৯,৬০০ টাকা
২০ ২০,০০০ – ৪৮,৪০০ টাকা
https://slotbet.online/