বরিশাল বিভাগে ২০২৫ সালে প্রতি চারজন বাসিন্দার মধ্যে একজনের কাছে পৌঁছেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের সেবা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ মোকাবেলা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে এ সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আজ বুধবার বরিশাল নগরীর একটি হোটেলের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা প্রায় ৮৯ লাখ। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবার আওতায় এসেছে প্রায় ২৪ লাখ মানুষ।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের মিল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, সেফগার্ডিং অ্যান্ড সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স বিভাগের পরিচালক আফম শহিদুর রহমান আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নারী ও যুবসমাজকে কেন্দ্র করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে সব উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয়। ব্র্যাকের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বরিশালের জেলেদের সুবিধার্থে উন্নত মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনার জন্য ব্র্যাককে আহ্বান জানান।
পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ব্র্যাক নিজেদের দক্ষতা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেছে। বার্ষিক প্রতিবেদন সংস্থাটির জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. এসএম মনজুর-এ-এলাহীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন বরিশাল বিভাগে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, বিভাগে ব্র্যাকের ৪ হাজার ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী। এছাড়া সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ২৫৩টি এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ১৩টি কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০২৫ সালে বরিশাল বিভাগে ১৯ হাজার ৮০৮টি অতি দরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার ৩৯৪টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। জলবায়ু সহনশীলতা কার্যক্রমের আওতায় সহায়তা পেয়েছে ৬ হাজার ৩৫৫টি পরিবার।
এছাড়া আর্থিক সেবার আওতায় এসেছে ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ, যার মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের প্রায় ৯১ শতাংশ নারী। স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় এসেছে ৪ লাখ ৯২ হাজারের বেশি মানুষ। একইসঙ্গে ১ লাখ ৯০ হাজারের বেশি গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং ৫১ হাজার ৯৮৩টি নিরাপদ প্রসবে সহায়তা করেছে ব্র্যাক। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার আওতায় এসেছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০২ জন মানুষ।
https://slotbet.online/