• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধে যেভাবে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় তিন মাস পর ইরানি শাসকগোষ্ঠী দ্রুত বিজয়ের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালায়। এর পরও ইরান সরকার টলেনি। তারা বরং অধিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনতে সক্ষম হয়, যা এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করে।

গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এমনকি ইরানের জ্বালানি শিল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাও তেহরানকে নতজানু করতে পারেনি। এমনকি ইরান লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও রাজি করাতে সক্ষম হয়।

ফ্রান্সের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইরানের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, ‘বর্তমানে ইরান নিঃসন্দেহে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে।’

ইরানের প্রতিরোধ কৌশল গবেষক ড্যান সোবেলম্যান মনে করেন, নিজেদের অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের ওপর সুবিধা লাভের জন্য ইরান ‘ত্রিভুজাকার চাপ’ কাজে লাগিয়েছে। এটি যুদ্ধের একটি শক্তিশালী কৌশল।

সোবেলম্যান বলেন, এই কৌশলটি কাজ করে এমন এক দুর্বল তৃতীয় পক্ষকে আক্রমণ করার মাধ্যমে, যার প্রতিপক্ষের ওপর কিছুটা প্রভাব রয়েছে। অর্থাৎ, তৃতীয় পক্ষকে ঘায়েল করে পরাশক্তির বিরুদ্ধে সুবিধা অর্জন করা যায়। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষগুলো ছিল মূলত উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো। যুদ্ধের শুরুতে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে আক্রমণ করে এবং হরমুজ কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয়। এর মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চূড়ান্ত বিজয়কে সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

যুদ্ধে ইরানের ‘ত্রিভুজাকার চাপ’ কৌশল 
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরই ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর গোলাবর্ষণ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। এর মাধ্যমে তারা কার্যকরভাবে এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ইরানের কৌশলটি কার্যকর হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে প্রায় আড়াই সপ্তাহ পরে, ১৮ মার্চ। এদিন ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রে বোমা হামলা চালায়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও কাতারের একটি প্রধান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফানে হামলা করে। পাশাপাশি তারা সৌদি আরব ও কুয়েতের তেল শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা চালায়।

সোবেলম্যান বলেন, এই প্রতিশোধমূলক হামলা ‘একটি সমীকরণ’ তৈরি করে, যা ইরানকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক  মাধ্যমে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত ছিল না এবং ইরান কাতারের ওপর হামলা বন্ধ করলে ইসরায়েল আর কোনো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাবে না। এটি ছিল যুদ্ধের একটি বড় মোড়।

হরমুজের প্রভাব 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত রাখার চেষ্টা করবে, এমন সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফেলো নিত্যা লাভ বলেন, ইরান যত বেশি দিন জাহাজ চলাচল জিম্মি করে রাখতে পারবে, ততই ইরান হরমুজ প্রণালির জন্য একটি বৈধ অংশীদার হয়ে উঠবে। এর অর্থ, যুদ্ধে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ইরান ভূরাজনৈতিক সক্ষমতা অটুট রেখেই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।  গ্রাজিউস্কি বলছেন, হরমুজ যখন তখন বন্ধ করে দেওয়ার সমক্ষমতা ভবিষ্যতের আক্রমণের বিরুদ্ধে ইরানের জন্য একটি ‘বীমা পলিসি’ হিসেবে কাজ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/