পিরোজপুরে কৃষি শ্রমিক সংকটে ধান সংগ্রহ করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে মাঠের পাকা বোরো ধান নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন তারা। কৃষকরা বলছেন, সরকারিভাবে তদারকি করা না হলে দিন দিন এই এলাকায় ধান চাষ বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন তারা।
পিরোজপুর সদরের কয়েকটি গ্রামের কৃষিজমির মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালি ধান। ইতিমধ্যে মাঠের অধিকাংশ ধান পাকলেও প্রয়োজনীয় কৃষি শ্রমিক মিলছে না। ফলে মাঠের পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না তারা।
পিরোজপুর কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৩৫ হাজার ৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৩৪ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পরিবেশ অনুকূল থাকায় এ বছর ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ভালো হলেও তার সুফল ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা।
শ্রমিক সংকটে দ্রুত সময়ে ধান সংগ্রহ করতে না পারায় বর্ষা আর বাতাসে পাকা ধান নুয়ে পড়ছে। ধান পেকে ঝরে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার রায়েরকাঠি এলাকার কৃষক ফজলু হাওলাদার বলেন, এ বছর ৫ বিঘা জমিতে লাল তীর ময়না ও হীরা টু জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। অধিকাংশ ধানই পেকে গেছে।
কিন্তু শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছি না। শ্রমিক পাওয়া গেলেও তারা ৯০০-১০০০ টাকা দাবি করছেন। সঙ্গে তাদের দুই বেলা খাবার দিতে হয়। সব মিলিয়ে এক হাজার টাকার ওপর খরচ পড়ে যায়। কিন্তু ধান বিক্রি করতে গেলে ধানের মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার বেশি পাওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ১৮ থেকে ২০ টাকা খরচ হয়। তাই ধান চাষ দিন দিন লোকসানে পরিণত হচ্ছে। সরকারিভাবে তদারকি করা না হলে এই এলাকার কৃষকরা ধান চাষ বন্ধ করে দিতে পারেন।
পিরোজপুর কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, ইতিমধ্যে ৫৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কৃষক সংকট সমাধানে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় ধান কাটতে কৃষকদের উৎসাহ দিচ্ছে কৃষক বিভাগ।
এ বছর জেলায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ মেট্রিক টন রোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
https://slotbet.online/