• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে লহ্মী পূজার দাওয়াতে এসে ৭ জন আটক সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেও শেষজীবনে একা, ভাড়া বাসায় মিলল মায়ের পঁচন ধরা মরদেহ ইশরাকের পথে হেঁটে বিপাকে বরিশাল বিএনপি নেতা ফারুক! বরিশাল পুলিশ সুপারের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বরিশালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাশে থাকার আশ্বাস বিএম কলেজের বনমালী ছাত্রীনিবাসে মধ্যরাতে বহিরাগত অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তাহীনায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্টে ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত কলেজের অধ্যক্ষ বরিশালে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতেও টনক নড়েনি কলেজ প্রশাসনের!

পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার / ১৮ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি ও ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

আমিনুল হক বলেন, বর্তমানে দেশের ২০১টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এসব স্টেডিয়াম নির্মিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও মাদকমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে তরুণদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে সরকার ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় তৈরিতে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে দল-মতনির্বিশেষে একটি সুন্দর ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি করে। তাই শুধু বড় শহর নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্যও খেলার মাঠ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ফাইনাল ম্যাচে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ের কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার প্রতি মানুষের ভালোবাসা প্রমাণ করে, বাংলাদেশে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এ আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে একটি ক্রীড়াবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাঁদের জাতীয় পর্যায়ের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরি ও সংস্কারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশের চার হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাঠ নির্মাণ ও সংস্কারের প্রস্তাব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে এলে সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে গ্রাম পর্যায়েও শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলার বই

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন একটি বই সংযোজন করা হচ্ছে বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বইয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, বাংলাদেশের খেলাধুলার ইতিহাস এবং বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা সম্পর্কে বিস্তারিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত করা গেলে তাদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, দলগত মনোভাব ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশ নেবে ১৬ লাখের বেশি ক্রীড়াবিদ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম আসরে এক লাখ ৬৮ হাজার ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বলে জানান তিনি। এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। তাঁদের মধ্য থেকে ভবিষ্যতের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার উন্নয়নে সরকার অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা এবং প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন করা গেলে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।

ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন শেরে-ই-বাংলা ফুটবল একাদশ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ১৪টি দল অংশ নেয়। গত ৪ অক্টোবর শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার বিকেলে কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে। ফাইনালে ‘তারুণ্যের উচ্ছ্বাস’ দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ‘শেরে-ই- বাংলা ফুটবল একাদশ’।

অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/