• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে লহ্মী পূজার দাওয়াতে এসে ৭ জন আটক সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেও শেষজীবনে একা, ভাড়া বাসায় মিলল মায়ের পঁচন ধরা মরদেহ ইশরাকের পথে হেঁটে বিপাকে বরিশাল বিএনপি নেতা ফারুক! বরিশাল পুলিশ সুপারের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বরিশালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাশে থাকার আশ্বাস বিএম কলেজের বনমালী ছাত্রীনিবাসে মধ্যরাতে বহিরাগত অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তাহীনায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্টে ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত কলেজের অধ্যক্ষ বরিশালে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতেও টনক নড়েনি কলেজ প্রশাসনের!

সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেও শেষজীবনে একা, ভাড়া বাসায় মিলল মায়ের পঁচন ধরা মরদেহ

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৮ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

 

বড় ছেলে সুমনের রাজধানীর উত্তরায় রয়েছে ছয়তলা ভবন। আছে বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা।

ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তাকে বিয়ে দিয়েছেন ভালো পাত্রের সঙ্গে।

সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে জীবনের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন সৌদি আরবে।

স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করতে করেছেন কঠোর পরিশ্রম। অথচ জীবনের শেষ সময়ে সেই তাহমিনা বেগমের (৬৫) ঠাঁই হয়েছিল বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায়। সেখানে একাই থাকতেন তিনি।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসা থেকে তাহমিনা বেগমের পঁচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছেন, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানতে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

মৃত তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একা বসবাস করে আসছিলেন।

বাসার মালিক আব্দুল বারেক জানিয়েছেন, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগমকে তার বড় ভাই ওই বাসায় ভাড়া রাখেন। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। মাঝেমধ্যে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন। তবে গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, রবিবার সকালে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে খোঁজ নিয়ে তার মরদেহের বিষয়টি জানা যায়। গত তিনমাসে তার ছেলে মেয়ে একবারের জন্যও দেখতে আসেনি বলেও বাসার মালিক জানিয়েছেন।

স্থানীয় ও নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী কদম আলী হাওলাদারকে হারিয়েছেন তাহমিনা বেগম। তখন তার চার সন্তান ছিল। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন।

তার বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। সেখানে তার ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদ ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তাকে ভালো যায়গায় বিয়ে দিয়েছেন।

সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করা তাহমিনা বেগম জীবনের শেষ সময়ে বাবুগঞ্জের নতুন হাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগমকে নতুন হাট এলাকার ওই বাসায় ভাড়া রাখেন তার বড় ভাই রমিজ উদ্দিন । এরপর থেকে তিনি সেখানে একাই থাকতেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে বাইরে বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।

গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার বিকেল থেকে বাসাটির আশপাশে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে প্রথমে বাড়ির মালিক আব্দুর বারেক ধারণা করেছিলেন, পাশের কোনো কক্ষে ইঁদুর মারা যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

রবিবার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তিনি তাহমিনা বেগমের কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তার বড় ভাইকে খবর দেওয়া হয়। তিনি বাসায় এসে কক্ষের দরজা কিছুটা খোলা দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে বোনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেন।

প্রতিবেশী শাহানা বেগম বলেন, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগম ওই বাসায় আসেন। এর আগে কয়েকবার স্ট্রোক করেছিলেন বলেও শুনেছেন তারা। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত। হৃদরোগে ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করতেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের বড় ভাই সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে তাহমিনা আক্তারের ছেলে ও মেয়েরা কেউ গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তাহমিনার স্বজন ও ছেলে-মেয়েরা প্রথমে পুলিশকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে বাঁধা দেয়। এমনকি গণমাধ্যমের কর্মীদের তথ্য সংগ্রহেও তারা বাঁধা প্রদান করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/