সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের একমাত্র ছাত্রী নিবাস ‘বনমালী গাঙ্গুলী হোস্টেলে’ গভীর রাতে বহিরাগত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে আতঙ্ক প্রকাশ করলে সহায়তায় আসা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে উল্টো অপেশাদার আচরণ ও নারী শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এমন সংবেদনশীল ঘটনার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ছাত্রী নিবাসের পুকুরপাড়ে এক অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন দায়িত্বরত নাইট গার্ড সুনীল বাবু। তিনি জানান, হলের পেছনের হ্যালোজেন লাইট বন্ধ দেখে এগিয়ে গেলে এক বহিরাগতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তাকে ধাওয়া করলে সে হলের পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। নাইট গার্ডের ধারণা, লোকটি চুরির উদ্দেশ্যে এসেছিল এবং এর আগেও হলের ভেতরের বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
তবে গভীর রাতে বহিরাগত প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কে ছাত্রীরা কক্ষ ছেড়ে নিচে নেমে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হলে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বদলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, বহিরাগত সন্দেহভাজনকে খোঁজা বা তল্লাশি জোরদার করার বদলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য সেখানে অবস্থানরত নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে আপত্তিজনক ও উত্যক্তমূলক মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে হলের আবাসিক শিক্ষিকা মনিরা আক্তার হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। পরবর্তীতে ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ বিষয়টার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্রীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে সারারাত হল প্রাঙ্গণে পাহারা দেন।
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থী মহসেনা মনি বলেন, “ঘটনার পর থেকে আমরা চরম আতঙ্কে আছি। বিশেষ করে হোস্টেলের নতুন শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”
হোস্টেলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী আয়সা সিদ্দিকা বলেন, গত ১ বছরে এই নিয়ে ৩ বার বহিরাগতের প্রবেশ। আমার পাশের রুম থেকে একটি মেয়ের মোবাইল ফোন চুরি হলো তাও আশানুরূপ কোনো ব্যবস্থা কেন নেওয়া হলো না?? প্রায়শই জানালায় ঢিল মেরে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয় মেয়েদের নিয়ে। সেইফটির কথা চিন্তা করেই বাবা মায়েরা হলে রেখেছে সেই সেইফটি কোথায় কে জানে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএম কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মারজান সোচ্চার হন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তিনি লেখেন, “নিরাপত্তার অজুহাতে সন্ধ্যা ৭টার পর বিশেষ অনুমতি ছাড়া ছাত্রীদের হলে ঢুকতে দেওয়া হয় না। অথচ হলের ভেতরে থাকা ছাত্রীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসন। তাহলে এই সান্ধ্যকালীন নিয়ম কি সুরক্ষার নামে ছাত্রীদের কেবল আটকে রাখার কৌশল?”
এ বিষয়ে হোস্টেলের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক জহিরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার কারণে হলের পেছনের অংশ জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া পেছনের দেয়াল নিচু ও পাশে গাছ থাকায় সহজে যে কেউ সীমানা টপকাতে পারে। এক চোর ঢুকে হ্যালোজেন লাইটের তার চুরি করে নিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছে; ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহোদয় এলে সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হবে।”
সার্বিক বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ জানান, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য আজ (শুক্রবার) রাতে আমি নিজে ছাত্রী নিবাসে যাবো। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে হলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা নৈশপ্রহরী বৃদ্ধি, সীমানা প্রাচীর সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করার জোর তাগিদ দিয়েছেন।
https://slotbet.online/