• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আবাসনসংকটে ৪ সরকারি কলেজ, মেসের খরচে হিমশিম নিম্নবিত্তরা বিএম কলেজের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা অধ্যক্ষের পা ধরে ক্ষমা চাইলেন শিক্ষার্থীরা,আন্দোলন স্থগিত সেই অধ্যক্ষের পা ধরে ক্ষমা চাইলেন শিক্ষার্থী মেহেন্দিগঞ্জে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্সে সার ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার মাদকের আসর থেকে আটক সেই পুলিশ কর্মকর্তা পালালেন থানা হেফাজত থেকে ‘যার সঙ্গে মহব্বত, তার সঙ্গেই কিয়ামত’— সহবত এখতিয়ারের আহ্বান চরমোনাই পীরের সিটিস্ক্যান মেশিনে শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রামের ঘটনা তদন্তে কমিটি পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার

আবাসনসংকটে ৪ সরকারি কলেজ, মেসের খরচে হিমশিম নিম্নবিত্তরা

স্টাফ রিপোর্টার / ১১ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বরিশালের চারটি সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়া হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখন তীব্র আবাসনসংকটে ভুগছেন। জেলা সদর ও দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রায় ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজগুলোতে আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮০০টি।

ফলে ৯৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী সরকারি আবাসন সুবিধার বাইরে থেকে মেস বা ভাড়া বাসায় বাড়তি খরচে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রমে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে শিক্ষার্থীদের অন্তত ৬০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। এ কারণে বরিশালের বাইরের জেলা ও উপজেলা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের শহরে থাকা অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।

কিন্তু পর্যাপ্ত আবাসন ও সাশ্রয়ী মেসের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 

জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি-প্রায় ৩২ হাজার। এর বিপরীতে আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০টি। দীর্ঘ ৩৭ বছরে কলেজটিতে নতুন কোনো আবাসিক হল নির্মিত হয়নি। বিদ্যমান ছয়টি হলের বেশির ভাগই সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ। ফলে কোনো কোনো হলে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও সরকারি বরিশাল কলেজে কোনো আবাসিক হল নেই। ফলে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। আবাসনের খরচ জোগাতে গিয়ে অনেকের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায় মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আবাসিক সুবিধা পান মাত্র ১০০ জন ছাত্র। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী হলের বাইরে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকছেন।

এ ছাড়া সরকারি মহিলা কলেজে প্রায় ১১ হাজার ছাত্রীর বিপরীতে আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ৫০০টি। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ছাত্রী আবাসিক সুবিধার বাইরে রয়েছেন। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন সবচেয়ে বেশি জরুরি হলেও এ ক্ষেত্রে চাহিদার তুলনায় সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।

বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহমেদ বলেন, বছরের পর বছর শিক্ষার্থী বাড়লেও হলের সংখ্যা বাড়ছে না। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের মেস বা বাসাভাড়ার পেছনেই সব টাকা চলে যাচ্ছে। দ্রুত নতুন হল নির্মাণ এবং পুরোনো হলগুলোর সংস্কার না হলে শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

একই কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হলে পর্যাপ্ত আসন নেই। আবার অনেকের পক্ষে মেসে থাকার খরচ বহন করাও অসম্ভব। এর ওপর বিদ্যমান হলগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে হলে থাকছেন।

আবাসনসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলেজগুলোর প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের এখানে ছেলেদের তুলনায় মেয়েশিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত একটি আবাসিক হল নির্মাণ করা জরুরি। আবাসনের অভাবেই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার দিন দিন কমছে।

বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ জানান, কলেজের বিদ্যমান আবাসিক হলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর। সেগুলো দ্রুত সংস্কার এবং আবাসনসংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, ১১ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১০০টি আসন একেবারেই অপ্রতুল। এ সমস্যা সমাধানে নতুন একটি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন ও বাজেট পাওয়া গেলেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত নতুন আবাসিক হল নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো হলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/