• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ইটের সলিং, বিটুমিনের পরিবর্তে ইট-বালু দিয়ে সড়ক সংস্কার, প্রশ্নের মুখে সওজ বরিশাল নগরীর ​নতুন বাজারে ময়লার স্তুপে দুই নবজাতকের মরদেহ হাসনাত আব্দুল্লাহর ফাঁসি চাইলেন বরিশালের ছাত্রদল নেতার স্ত্রী আলেকান্দা সরকারি কলেজে ‘সাহিত্য পাতা’ আষাঢ় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্ন, স্তন অপারেশনের পর যুবতীর মৃত্যু যানজটে আটকা পরে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু দুটি সড়কের বেহাল দশা, ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, অতঃপর মৃত্যু ববিতে নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশের দাবিতে স্মারকলিপি বাকেরগঞ্জে জাতীয় ছাত্রশক্তির আংশিক কমিটি গঠন

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ইটের সলিং, বিটুমিনের পরিবর্তে ইট-বালু দিয়ে সড়ক সংস্কার, প্রশ্নের মুখে সওজ

স্টাফ রিপোর্টার / ২৫ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী অংশে বিটুমিন ও পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করে সংস্কারকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইটের সলিং করতেও দেখা গেছে। এতে সড়ক সংস্কারে নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও নির্মাণমান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বার্থী বাসস্ট্যান্ড, ইল্লা, কটকস্থল, সাউদেরখালপাড়, টরকী বাসস্ট্যান্ড, মদিনা স্ট্যান্ড, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, বেজহার, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল ও সানুহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।

কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সড়কের নিচের অংশ বেরিয়ে এসেছে, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন গর্তে ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে বালুর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে। কোথাও শুধু ইটের টুকরো দিয়েই গর্ত ভরাট করা হয়েছে। আবার কয়েকটি স্থানে ইটের সলিং করা হয়েছে। তবে সংস্কারকাজের সময় পাথর বা বিটুমিন ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটের টুকরো দিয়ে গর্ত ভরাট করায় ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো সরে যাচ্ছে। ফলে একই স্থানে আবারও গর্ত তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যানবাহনের চাকার চাপে ইট ভেঙে ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী, ছোট যানবাহনের চালক এবং সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, এ ধরনের সাময়িক মেরামতের কারণে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ ব্যয়ের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকি ও সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণের গুণগতমান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাটের প্রয়োজন থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন ও নির্মাণমান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কাজের মান পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর জেলার সড়ক ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেহাল সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকার দাবি উঠেছে।

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী দূরপাল্লার কয়েকজন চালক জানান, গৌরনদী অংশের কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়ক ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে আছে। ফলে ভারী যানবাহনের চাকা গর্তে পড়ে ইঞ্জিন, চাকা ও টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। মূল সড়কের সঙ্গে বর্ধিত অংশের উচ্চতার পার্থক্য থাকায় কম প্রশস্ত অংশ দিয়ে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশ ব্যবহার না করে মূল সড়কে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি বলেন, মহাসড়কটি সম্পূর্ণভাবে বর্ধিত করে সংস্কার করা হলে এবং চালকদের সচেতন করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে গর্তগুলোতে ইটের গুঁড়া দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইট দিয়ে গর্ত ভরাটের বিষয়টি প্রাথমিক কাজ। বৃষ্টি কমে গেলে স্থায়ীভাবে পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রাথমিক সংস্কারের নামে ইট-বালু দিয়ে গর্ত ভরাটের এই পদ্ধতি কতটা টেকসই এবং নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না। তাদের দাবি, ব্যস্ততম এই মহাসড়কে দ্রুত টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করে নিরাপদ যান চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/