বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ‘ক্রসফায়ারে’ দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে জবানবন্দি দেওয়ার পর তিনি এ দাবি জানান। এ মামলায় ২০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দির একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমা আক্তার বলেন, তাঁর দুটি মেয়ে রয়েছে। স্বামী হত্যার সময় তারা খুব ছোট ছিল। দেশে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে—এ জন্য নিজের ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসান উল্লাহ এবং গ্রেপ্তার দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার প্রার্থনা করেন তিনি। এ কথা বলার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমা আক্তার।
নিহত টিপু হাওলাদার আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি কবির মোল্লা একই উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এদিন সকালে মামলায় গ্রেপ্তার উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁদের উপস্থিতিতেই টিপু হাওলাদারের স্ত্রী সুমা আক্তার জবানবন্দি দেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ।
এর আগে গত ২০ মে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁদের সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ কাজ বাস্তবায়নে তৎকালীন বরিশালের পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু ও কবিরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ।
প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ, এরপর সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে টিপু ও কবিরকে ‘ক্রসফায়ারের’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়।
তবে মামলার অভিযোগগুলো বিচারাধীন এবং ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
https://slotbet.online/