ভোলায় দুই দিনে পুকুরে পড়ে চারজন ও অটোরিকশার ধাক্কায় একজনসহ মোট পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সবার বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। সোমবার ও মঙ্গলবার পুকুরে ডুবে ও অটোরিকশা দুর্ঘটনায় এসব শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুরা হলো, ভোলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. রিয়াজের ৫ বছর বয়সী কন্যা তাসলিমা আক্তার, পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাবিবের ৬ বছর বয়সী পুত্র আফনান হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আকবর হোসেনের ১৬ মাস বয়সী ছেলে তাকরিম, আলীনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত হোসেনের ৪ বছর বয়সী ছেলে আজমাইন এবং ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দুলালের ১৮ মাস বয়সী মেয়ে তাসফিয়া।
শিশু তাসলিমার বাবা মো. রিয়াজ জানান, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে তাসফিয়ার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য কাজ করছিলেন। এই ফাঁকে তাসলিমা ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তাকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও প্রথমে কোথাও পাওয়া যায়নি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বসতঘরের পাশে থাকা পুকুরে তাসলিমাকে ভাসতে দেখে স্বজন ও আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং সন্ধ্যায় তাকে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে শিশু আফনানের বাবা মো. হাবিব বলেন, আমার ছেলে দোকানে যাওয়ার উদ্দেশে বসতঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিপরীতে দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে এবং গুরুতর আহত হয় আফনান। পরে আশপাশের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, সোমবার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আকবর হোসেন জানান, আমার ১৬ মাসের ছেলে তাকরিম তার মায়ের সঙ্গে ঘরের পিছনে ছিলো। হঠাৎ তাকে দেখতে না পেয়ে প্রথমে ঘরে খোঁজাখুঁজি করেন। সেখানে না পেয়ে পাশের বাড়িতে ও খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ বসত বাড়ির পুকুরে খুঁজতে যায়। পুকুরের কিনারে পানিতে ভাসতে দেখা যায়। এসময় তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
আলীনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাদাত হোসেন জানান, ৪ বছর বয়সী ছেলে আজমাইন ঘরের উঠানে বল নিয়ে খেলছিলো। কিছুক্ষণ পর আমি ঘরে এসে আজমাইনকে না দেখে ঘরসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করি এবং আমার স্বজনরাও খুঁজতে থাকে। প্রায় একঘণ্টা পর আমার চাচাতো বোন পুকুরে গোসল করতে গেলে পানির নীচে তার পায়ের সাথে লেগে উপরে উঠে যায়। এসময় তার ডাক চিৎকার শুনে স্বজনরা পুকুরে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দুলাল জানান, স্ত্রী সুফিয়া ১৮ মাস বয়সী মেয়ে তাসফিয়াকে পুকুর পাড়ে বসিয়ে রেখে থালা বাসন ধোয়ার কাজ করছিল। এ সময় তাসফিয়া পুকুরের অন্য জায়গা দিয়ে পানিতে পড়ে যায়। এ সময় তাসফিয়ার মা শব্দ শুনে দেখে সে পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এ সময় তাসফিয়ার মা চিৎকার দিয়ে উঠলে ঘরের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এসব শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ‘আমরা ভোলাবাসী সংগঠনের’ সদস্য-সচিব মীর মোশারেফ অমি। তিনি বলেন, পানিতে পড়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। তবে অভিভাবকদের শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে আরও সচেতন হতে হবে। এসব মৃত্যুর জন্য বাবা- মায়ের অসচেতনতাকেই দায়ী করেন। সবাইকে শিশুর প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুই দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ গিয়েছিল। তবে, নিহত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ না পাওয়ায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
https://slotbet.online/