বরিশাল-৫ সদর আসন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল দুটি বৃহত্তর জোটের অংশ হলেও আসন বণ্টন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
বরিশাল-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। একই আসনে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। আসনটির বিষয়ে দুই দলই বর্তমানে অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বরিশাল সদরের এই আসনটিতেই অবস্থিত চরমোনাই ইউনিয়ন, যা ইসলামী আন্দোলনের প্রধান সাংগঠনিক ভিত্তি ও কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সাহেবের আসনে প্রার্থী দিইনি। সেখানে আমাদের এই আসনে তাদের প্রার্থী দেওয়াটা অনভিপ্রেত হয়েছে। এই এলাকায় আমাদের শক্ত ভিত্তি রয়েছে। এখানে অন্য কেউ জোটের হয়ে নির্বাচন করবে—এটি কি সম্ভব বা হওয়া উচিত?
অন্যদিকে, এই আসনটি ছাড়তে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। এ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনের পাশাপাশি বরিশাল-৬ আসনেও প্রার্থী হয়েছেন। তাঁকে বরিশাল-৫ আসনটি ছেড়ে দিয়ে বরিশাল-৬ আসন থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘তিনি (ফয়জুল করীম) দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন। আমরা বলেছি আপনারা একটি নিন। সেই হিসেবে তাঁকে বরিশাল-৬ আসনটি বেছে নিতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তিনি দুটি আসনেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এখন একজন ব্যক্তির দুটি আসনে নির্বাচন করা—এটি তো জামায়াতের আমির সাহেবও করছেন না। আমরা আশা করি আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান হবে।’
উল্লেখ্য, সব ভোট ‘এক বক্সে’ আনতে এবার জামায়াতসহ ইসলামি দলগুলো একটি নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। পরবর্তীতে এই জোটে যোগ দিয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি), এলডিপি ও এবি পার্টি। জোট হলেও কোন দল কয়টি আসন পাবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি এবং নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
https://slotbet.online/