পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে রাবনাবাদ নদীর তীরে নির্মাণাধীন পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)কে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। ৪১০ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ৩০৬টি শিল্প প্লট স্থাপন, প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং বছরে ১ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্টে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের পর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ২০২৪ সালের শেষ দিকে মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি), কারখানা ভবন, প্রশাসনিক ভবন এবং পুনর্বাসন ঘরের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
তবে প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনো শিল্পাঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সংযোগ, রেললাইন এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হয়নি। এসব অবকাঠামো ছাড়া বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারে, ফলে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
এছাড়া জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বিতরণ নিয়েও কিছু জটিলতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা। তাদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা হলে প্রকল্পটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
অন্যদিকে, বেপজা জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সব ধরনের অবকাঠামো সম্পন্ন করে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে শিল্প উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
এখন সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো গ্যাস, সড়ক ও রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে পটুয়াখালী ইপিজেড দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। অন্যথায়, বিশাল বিনিয়োগের পরও প্রকল্পটি প্রত্যাশিত সুফল অর্জনে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
https://slotbet.online/