• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি / ৪ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন পরিতোষ হালদার। উৎপাদনও হয় ভালো। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার এই কৃষকের। পরিতোষের অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে ভেজা বা নিম্নমানের অজুহাত দেখিয়ে তা কেনা হয় না। অথচ সহজেই সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রভাবশালীদের ধান। শুধু পরিতোষ নয়, উপজেলার অনেক কৃষকের অভিযোগ একই প্রায় রকম। সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক কৃষক। কৃষকরা জানান, উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।

কখন ধান জমা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভও করেন কৃষকরা।

কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারীর অভিযোগ, তিনি ২৫ মণ ধান নিয়ে গুদামে যান।

কিন্তু দীর্ঘ সারির কথা বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তার দাবি, গুদামের সামনে হাজার হাজার বস্তা ধান মজুদ রাখায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এতে সরকারি দামে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের বাইরে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, অন্য চাষিরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো  কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহের অভিযোগও করেন তারা।

এদিকে সম্প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ভালো মানের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরবরাহ করা নিম্নমানের ধান কেনা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ধান নিয়ে এলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তার ভাষ্য, বর্তমানে বস্তার কিছু সংকট থাকায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদামের বাইরে ধান কেনাবেচা বা কারা ধান মজুত করছে, সে বিষয়ে তার কোনো দায়িত্ব নেই বলেও জানান তিনি। কৃষি কার্ডধারী ব্যক্তি ধান নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট এক  হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

কৃষকদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/