২০২৪ সালের ৩০ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে আন্দোলনকারীরা এই কর্মসূচিকে প্রত্যাখ্যান করে সারা দেশে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নিজেদের প্রোফাইল ছবি লাল রঙে পরিবর্তন করে প্রতিবাদের ভাষা প্রকাশ করেন।
রক্তাক্ত জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুলাইও আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা বাড়তে থাকলেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে সরকার পরিবর্তন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান। একই সঙ্গে প্রাণহানির ঘটনার তদন্তে জাতিসংঘের সহায়তা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা এসব পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করেননি।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চোখে-মুখে লাল কাপড় বেঁধে হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদের নানা কর্মসূচি দেখা যায়।
এদিন ছয় সমন্বয়কের মুক্তি এবং আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না চালানোর নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের শুনানিতে আদালত সব মৃত্যুকেই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গণহত্যা বন্ধে কোনো কার্যকর নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল।
অন্যদিকে, ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কসহ আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। একই সময়ে ঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়ে লন্ডন থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদেরও আন্দোলনে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের বিষয়ে উদ্বেগ জানান। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৎকালীন পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল ‘দেখামাত্র গুলির নির্দেশ’ এবং আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীরা গণগ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং আন্দোলনকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।
এছাড়া ৩০ জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা সে সময়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
https://slotbet.online/