• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল জামেয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (দাঃবাঃ) অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সু-খবর পেলেন ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বরিশালে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ১০ জেলে মেহেন্দিগঞ্জে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে হারিকেন মিছিল বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম মারা গেছেন ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন কে বাছাই, এসএসসিতে ফেল সবাই বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক! হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে গোলাম নবী আলমগীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পল্লবীর সেই শিশু রামিসা’র বাসায় প্রধানমন্ত্রী

দর্পন ডেস্ক / ৬২ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মিরপুরের পল্লবী এলাকায় রামিসা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেখানে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন রামিসার পিতামাতা এবং অন্যান্য স্বজনরা। এসময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এক পর্যায়ে রামিসার বাবা প্রধানমন্ত্রীর পায়ে ধরে কান্না শুরু করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচারের পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। রামিসার বড় বোনের সব দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে গত মঙ্গলবার পাশের ফ্লাটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত সোহেল রানা। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সোহেল রানা নামের এক যুবক। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার মেয়েকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শয়নকক্ষের মেঝেতে তার মেয়ের মস্তকবিহীন লাশ ও বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি ছিল।

ওই ঘটনার পরই ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, দরজা খোলার পর মেয়েটিকে দেখে তার বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় মেয়েটিকে ডেকে ঘরের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একপর্যায়ে লাশ গুমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন রানার স্ত্রী।

আদালতে জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তারা একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। শিশুটির পরিবারসহ তিনটি পরিবারের বাস ছিল একই তলার পাশাপাশি। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সে। পরে জোর করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে।

সোহেল জানায়, ঘটনার পর শিশুটি তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় মেয়েটির মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো প্রক্রিয়াতেই সোহেলকে সহযোগিতা করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/