রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে গতকাল রাত ৮টার দিকে তার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজন ও এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শিশু রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে, মুন্সিগঞ্জ শহরে মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।
এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে যথাযথ উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেছেন আইনমন্ত্রী।
গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেল ও স্বপ্নাকে আটক করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে সোহেল। এ ছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।
https://slotbet.online/