সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, জনদুর্ভোগ কমাতে কাজ করছে সরকার। সম্প্রতি শিশু আবিরার এক দাবিকে কেন্দ্র করেই লোহালিয়া নদীতে আগামী বছরের প্রথম দিকেই নির্মিত হতে যাচ্ছে বগা সেতু। মঙ্গলবার ১৯ মে দুপুর ১ টায় পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে নতুন এই সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সেতুমন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শহরের মূল অর্থনৈতিক কাঠামোর সাথে আরও নিবিড় ও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলে গ্রামের কৃষিপণ্য, কুটির শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদিত সামগ্রী কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি শহরের বড় বাজারগুলোতে পৌঁছে যাবে। এতে গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও সাধারণ কৃষকেরা তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন, যা সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র বদলে দিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ যেমন কমবে, তেমনই তৈরি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার সুযোগ পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান, নদীর প্রবাহ, মাটির গঠনসহ নানা বিষয় সরেজমিন পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি জানান, সেতুটি নির্মিত হলে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
জরুরি চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বগা সেতু নির্মিত হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা সরাসরি অ্যাম্বুলেন্স করে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে শহরের আধুনিক হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবে। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা প্রসূতি মায়েদের জটিলতার মতো জরুরি মুহূর্তে এই সেতুটি একটি ‘লাইফলাইন’হিসেবে কাজ করবে। ঝড়-তুফান বা রাতের আঁধারেও দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত সুবিধা পাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।
সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি লোহালিয়া নদীতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই পরিদর্শন অনুষ্ঠানে বলেন, একসময় অবহেলিত ও অনুন্নত হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালী জেলা আজ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনামলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর উদ্যোগে পটুয়াখালীতে নতুন রাস্তা, সেতু ও জনসেবামূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। বর্তমান সরকার আধুনিক প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে পটুয়াখালীসহ সারাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
পরিদর্শনকালে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউসুফ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/