পটুয়াখালীর কালাপাড়ায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে মজুদ ও কালোবাজারির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে কালাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরাবাদ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয় রাত ২ টা পর্যন্ত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো কাউছার হামিদ, উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও কলাপাড়া থানা পুলিশ।
অভিযানকালে আমিরাবাদ এলাকার মো. ইমরান হোসেন (৩০) এর বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৩০ কেজি ওজনের ২৬টি বস্তা সরকারি চাল ও ২৪ টি খালি চালের বস্তা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চালের মোট ওজন প্রায় ৭৮০ কেজি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জব্দকৃত চালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৯ হাজার টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়া চাল খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত, যা দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত। এসব চাল অবৈধভাবে মজুদ করে কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছে প্রশাসন।
রবিবার মামলার বাদী হিসেবে এজাহার করেন উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন রেজা। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাল কেনাবেচা ও মজুদের বিষয়ে অভিযোগ আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
এ ঘটনায় মো. ইমরান হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের নামও রয়েছে, যারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কালাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো নজরুল ইসলাম জানান, একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
এ রকম আরো সংবাদ...