• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার মাদকের আসর থেকে আটক সেই পুলিশ কর্মকর্তা পালালেন থানা হেফাজত থেকে ‘যার সঙ্গে মহব্বত, তার সঙ্গেই কিয়ামত’— সহবত এখতিয়ারের আহ্বান চরমোনাই পীরের সিটিস্ক্যান মেশিনে শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রামের ঘটনা তদন্তে কমিটি পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার বরিশাল আদালত ভবন থেকে পরে যুবকের মৃত্যু বরিশালে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে জরিমানা আদায় আন্তর্জাতিক ‘বঙ্গোপসাগর সংলাপে’ ববি’র পাঁচ শিক্ষার্থী নীতিবান নেতৃত্ব ও ইসলামী শিক্ষাই পারে সংকটমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে: শায়খে চরমোনাই কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর

নতুন রূপে সেজেছে বিনোদন কেন্দ্র, উচ্ছেদে দিশেহারা হকার

স্টাফ রিপোর্টার / ৮৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

নতুন রূপে সেজেছে বরিশাল নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ধারাবাহিক অভিযানে বেলস পার্ক, বিবির পুকুর পাড় ও চৌমাথা লেকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত এখন সম্পূর্ণ দখলমুক্ত। এতে নগরবাসী ও বিনোদন কেন্দ্রের দর্শনার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, উচ্ছেদ হওয়া হাজারো ভাসমান ব্যবসায়ীর ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থান নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সংশয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলস পার্কের প্রবেশপথে বসানো হয়েছে সুদৃশ্য রেলিং গেট। একসময় যেখানে হকার ও অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাই ছিল দায়, সেখানে এখন বইছে স্বস্তির বাতাস। বিবির পুকুর পাড় কিংবা চৌমাথা লেক, সবখানেই এখন উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। বিকেলে পরিবার আর শিশুদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন নগরবাসী।

বেলস পার্কে বেড়াতে আসা নগরীর সদর রোডের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আগে এখানে এসে শান্তিতে বসার বা হাঁটার পরিবেশ ছিল না। চারদিকে চটপটি-ফুচকার দোকান আর হকারদের উচ্চ শব্দে কান পাতা যেত না। এখন অনেক পরিচ্ছন্ন লাগছে, বাচ্চাদের নিয়ে নির্ভয়ে হাঁটা যাচ্ছে। আমরা চাই এই পরিবেশ যেন সবসময় বজায় থাকে। এ দিকে এই স্বস্তির উল্টো পিঠে রয়েছে হাজারো পরিবারের দুশ্চিন্তা। 

সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, মহানগরী এলাকায় ভাসমান দোকানের সংখ্যা ছিল এক হাজারের বেশি। আকস্মিক এই উচ্ছেদে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

​বেলস পার্কের সামনে দীর্ঘদিন ধরে খেলনা বিক্রি করা মো. খলিল মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘হঠাৎ কইরা আমাগো দোকানগুলা ভাইঙ্গা দিল। এই দোকান দিয়াই আমার পাঁচজনের সংসার চলত, পোলাপানের পড়াশোনার খরচ চলত। এহন আমি কই যামু, কি করুম? আমাগো উচ্ছেদ করার আগে তো একটা ব্যবস্থা কইরা দেয়া উচিত আছিল।
এ দিকে ​সচেতন মহলের মতে, পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলা কমিটির সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ফুটপাত ও বিনোদনকেন্দ্র দখলমুক্ত করা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। হঠাৎ এত মানুষ বেকার হয়ে পড়ায় নগরীতে অপরাধ বৃদ্ধির একটা আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই মানবিক কারণে দ্রুত তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান করা জরুরি।

​এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, নগরীর বেলস পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে আর কোনোভাবেই দখল হতে দেয়া হবে না। নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর উপহার দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে আমরা ভাসমান ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনা করছি। তাদের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/