হয়রানি আর ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে উঠছে বরিশালের গৌরনদী ভূমি অফিস। আশপাশের উপজেলাগুলোতে সহজভাবে ভূমি সেবা মিললেও গৌরনদীতে যেন তার উল্টো চিত্র। দিনের পর দিন ভূমি অফিসে ঘুরেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ অসংখ্য সেবা প্রত্যাশিদের।
জেলার একাধিক উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সব উপজেলার ১/১ (খ) খতিয়ানভুক্ত জমির কাগজপত্র সঠিক থাকলে আবেদনকারীর অনূকূলে নামজারি প্রদান করা হচ্ছে। তবে গৌরনদী ভূমি অফিসে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কাগজপত্র সঠিক থাকলে (খ) তালিকাভুক্ত সম্পত্তির নামজারি দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তার খামখেয়ালীপনায় মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও (খ তালিকাভুক্ত) সম্পত্তির নামজারি পাচ্ছেন না সেবা প্রত্যাশিরা। এনিয়ে সেবা প্রত্যাশিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও অধিক হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
হয়রানির ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাহিলাড়া ইউনিয়নের এক সেবা প্রত্যাশি বলেন, আমার পিতার ক্রয়কৃত অনেকগুলো জমি ১/১ (খ) খতিয়ানভুক্ত হয়ে যায়। যা নিয়ে আদালতে মামলা দায়েরের পর আমরা জয়ী হই। ওই জমির নামজারির জন্য ২০২২ সালে গৌরনদী ভূমি অফিসে আবেদন করেছি। সেই থেকে ভূমি অফিসে দৌরাচ্ছি কিন্তু কোন সমাধান পাচ্ছিনা। সাবেক এক এসিল্যান্ড নামজারি করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তার হঠাৎ বদলী হওয়ায় নামজারিটি হয়নি। বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান এযাবত পাঁচটি তারিখ দিয়েছেন। প্রতি তারিখ হাজিরা দেওয়ার পর আবার নতুন তারিখ দিচ্ছেন। এভাবে দিনের পর দিন ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরলেও কোন সমাধান মিলছেনা। আমরা এর থেকে পরিত্রান চাই।
নাম প্রকাশ না করে বার্থী এলাকার দুই বাসিন্দা জানান, গত এক বছর ধরে তাদের ভোগদখলে থাকা ১/১ (খ) তালিকাভুক্ত সম্পত্তির নামজারির জন্য ভূমি অফিসে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সকল কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্বেও নামজারির জন্য মাসের পর মাস ঘুরাচ্ছেন এসিল্যান্ড। ভূমি অফিসের হয়রানিতে আমরা অতিষ্ট।
খাঞ্জাপুর এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ক্রয়কৃত ১৭ শতক জমি অজ্ঞাত কারনে ১/১ (খ) তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই জমির নামজারি করার জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করি। বর্তমান এসিল্যান্ড ৪ বার তারিখ দিয়েছেন। দুই বার শুনানিতে গিয়ে সকল বৈধ কাগজপত্র দাখিল করেও কোন সমাধান পাইনি। তিনি মামলা খারিজও করছেনা আবার সমাধানও দিচ্ছেনা। শুধু তারিখের পর তারিখ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
একদিনের নামজারি সেবা বন্ধ: একাধিক ভূমি সেবা প্রত্যাশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সেবাকুঞ্জের মাধ্যমে একদিনে আবেদন, একদিনে নামজারি সেবা কার্যক্রম চালু করেছিলেন সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব হোসেন। যা তখন দেশব্যাপী আলোচিত হয়। তিনি এ উপজেলা থেকে চলে যাওয়ার পর ওই সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে স্বাভাবিক নামজারি কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের দাবী ওই সেবাটি আবার চালু করা হলে ভূমি সেবায় গতি আসবে।
এবিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির আব্দুল হালিমের কাছে বিগত এক বছরে কতটি খ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির নামজারি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। তিনি বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এবিষয়ে গৌরনদী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, খ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির দুইটা নিয়ম যদি মালিকানার ধারাবাহিকতা থাকে তবে সেটা পেয়ে যাবে। মালিকানার ধারাবাহিকতা না থাকলেতো সেটা করতে পারবোনা। সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা এসিল্যান্ডের অন্যতম কাজ। এখন কেউ যদি সরকারি সম্পত্তিকে নিজের বলে দাবী করে সেটাতো আর এসিল্যান্ড দিতে পারবেনা।
এবিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, সরকারি স্বার্থ না থাকলে সে গুলোতো নামজারি হওয়ার কথা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
https://slotbet.online/