চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বরিশালের পোলট্রিশিল্প। বিশেষ করে গ্রামের খামারিরা লোডশেডিং ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে খামারের মুরগি। এতে ডিম ও মাংসের উৎপাদনও কমেছে। ঘরের চালে ঝরনা, বাড়তি ফ্যানের ব্যবস্থা করেও মুরগি সুস্থ রাখতে পারছেন না। ফলে চরম লোকসানে পড়ছেন বরিশালের খামারিরা।
বিদ্যুতের কারণে লোকসানে পড়েছেন বরিশালের মুরগির খামারিরাও। লোডশেডিংয়ে হিটস্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে মুরগি। এতে করে পোলট্রিশিল্প বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, গ্রামে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং দিতে হয় তাদের।
বরিশাল সদর উপজেলার সোলনা বাজারের মুরগির ফার্মের মালিক মো. পলাশ বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমার ফার্মের ২০০ মুরগি হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বেশিদিন খামারে মুরগি রাখা যাচ্ছে না, বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি আমরা।’
একই কথা জানিয়েছেন খামারি মাসুম, আরমান কাওসার। তারা জানিয়েছেন, খামার টিকিয়ে রাখতে লোকশান গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর ভাড়া করতে হয়েছে। কিন্তু তার জন্য তেলও পাওয়া যাচ্ছে না। তেল নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। বয়লার মুরগি দুই থেকে তিন কেজি হলে ভালো দাম পাওয়া যায়। কিন্তু এখন এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, এক কেজি হলেই তা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে খামারিরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসবেন বলে জানান তারা। এজন্য সরকারের কাছে তাদের আবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করার।
https://slotbet.online/