সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন সভাপতিত্ব করেন।
লিগ্যাল এইডের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি বলেন, সরকার আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার পেতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান করার জন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ পাস করে। লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার জন্য ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন করা হয়েছে। এসময় তিনি আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি লিগ্যাল এইডের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা লিগ্যাল এইডের মূল লক্ষ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো বিপদে পড়া মানুষকে আইনগত সহায়তার মাধ্যমে সঠিক পথ দেখানো এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়িয়ে মামলা সংক্রান্ত হয়রানি থেকে মুক্ত করা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারের এই বিনামূল্যে আইনি সেবার সুফল তখনই সার্থক হবে যখন এর প্রচার শহর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই সেবার পরিধিও বেড়েছে। তাই সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাঃ রকিবুল ইসলাম, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাহিদুল আজাদ, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জহির উদ্দিন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার এ, জেড, এম মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ এস, এম, মনজুর-এ-এলাহী, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এমদাদুল হক বক্তৃতা করেন। এসময় বিচারক, আইনজীবী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, সুবিধাভোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/