সেই হাসিতে প্রাণ জুড়াচ্ছে কৃষকের। উৎপাদন খরচ কম, কম সময়ে ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন বরিশাল বিভাগের কৃষকরা। একই সঙ্গে মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা জানছেন সূর্যমুখী চাষের আদ্যোপান্ত। এছাড়া মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকার বীজ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকার তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় এটি কৃষকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বরিশাল অঞ্চলে এরই মধ্যে সূর্যমুখী থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৫৭৭ হেক্টর জমিতে। তবে আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৯৮ হেক্টরে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬৯১ হেক্টর বেশি। এ অর্জন বরিশাল অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এ জেলায় ৩ হাজার ৫০৯ হেক্টর, বরগুনায় প্রায় ৩ হাজার ২২২, ভোলায় ৯৫০, পিরোজপুরে ৯৭৮, ঝালকাঠিতে ২১৫ ও বরিশালে ২২৪ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। এ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে এবং কৃষকরা ক্রমেই এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।
কৃষিসংশ্লিষ্টদের মতে, অল্প বিনিয়োগে অধিক লাভের সম্ভাবনা সূর্যমুখীকে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত করেছে। মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকার বীজ থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকার তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকায় এটি কৃষকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়। এ প্রেক্ষাপটে সূর্যমুখী চাষের সম্প্রসারণ দেশীয় তেল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি প্রতি বছর সূর্যমুখী চাষ করলেও এবার আবাদ বাড়িয়েছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় খরচ কমিয়ে লাভের আশা করছেন।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকার কৃষক করিম হাওলাদার বলেন, আগে যে জমি পতিত ছিল, এখন সেখানে সূর্যমুখী চাষ করে ভালো আয় করছেন। তার ভাষায়, ‘খরচ কম, লাভ বেশি—এ হিসাবই আমাকে সূর্যমুখী চাষে ধরে রেখেছে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরাসরি মাঠ থেকে বীজ কিনে নেয়ায় বাজার নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তা নেই।’
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, সূর্যমুখী বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বরিশাল অঞ্চলে এরই মধ্যে সূর্যমুখী থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা আমদানিনির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের আগ্রহ বজায় রাখতে পারলে আগামী দিনে এ চাষ আরো বিস্তৃত এবং দেশীয় তেল উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।
https://slotbet.online/