বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী সুজন ও প্রীতম। সম্পর্কে তারা মামা ভাগ্নে। ছোট বেলা থেকেই রোবটের প্রতি তাদের আগ্রহ ছিলো আকাশ ছোঁয়া।
বিভিন্ন বিজ্ঞান মেলা আর সেমিনারে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছেন ৩’শ কিলোমিটার গতিতে পাঁচ কিলোমিটার দুরুত্বের মধ্যে আঘাত হানতে পারা থান্ডারবোল্ট নামের একটি ক্রুজ মিসাইল।
উদ্ভাবক সুজন চন্দ্র পাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। আর প্রীতম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনেই বরিশালের আগৈলঝাড়ার গৈলা গ্রামের বাসিন্দা।
এসএসসি পড়াবস্থায় তারা তৈরী করেছিলেন বায়োনিক আর্ম আর বট রোবট (ক্লিনার ও সাহায্যকারী) যা বর্তমানে বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে।
আলাপকালে সুজন চন্দ্র পাল জানান তাদের তৈরী প্রটোটাইপ মিসাইলের বিস্তারিত। তিনি বলেন, ‘নাসা স্পেস এ্যাপস চ্যালেঞ্জ ও নাসা স্টুডেন্ট লঞ্চ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে মিসাইল তৈরীর চেষ্টা করে যান। অবশেষে এক বছরের চেষ্টায় সফলও হন তারা।’
সুজন আরও বলেন, ‘এমন প্রজেক্ট চালু রাখতে দরকার সরকারী বা বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের সহায়তা। পড়ালেখার খরচ দিয়ে এই প্রজেক্ট চালু রাখা সম্ভব নয়।’
উদ্ভাবক প্রীতম পাল বলেন, ‘টিউশন আর বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিয়ে জমানো ৭ লাখ দিয়েই এই মিসাইলটি তৈরী করা হয়েছে। এটা নিয়ে আরও বিস্তর গবেষনা করা গেলে এর আঘাত হানার দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫’শ কিংবা হাজার কিলোমিটার করা সম্ভব। আর গতি বাড়ানো সম্ভব আরও কয়েকগুন।’
তাদের এই সফলতায় উচ্ছ্বসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন উদ্ভাবন দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. খোরশেদ আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধাকে আরও বেগবান করতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জরুরি।’
তাদের নিজ উদ্যোগে তৈরী মিসাইলের প্রশংসা করে ওই শিক্ষক আরও বলেন, ‘বিভাগীয় পর্যায় থেকে সাধ্যনুযায়ী তাদের পাশে থেকে সহযোগিতার পাশাপাশি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।’
https://slotbet.online/