• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

গরীব লোককে সহায়তা প্রদানে কলাপাড়ায় ফার্মেসী বন্ধ করে দিলো ঔষধ সমিতি

কলাপাড়া প্রতিনিধি / ২৬ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

টুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক গরীব লোকর কাছে সামান্য দামে ঔষধ বিক্রি করায় প্রগতি মেডিকেল হল নামের একটি দীর্ঘ দিনের পুরোনো ফার্মেসি বন্ধ করে দিয়েছে  কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগ এ্যাসোশিয়েশনের কর্তারা। শুক্রবার সকাল থেকে সমিতির নেতাদের আল্টিমেটামের কবলে পরে ফার্মেসিটি বন্ধ রাখা হয়। তবে এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।

ফলে নেট দুনিয়াজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শত শত মানুষ। নেটিজনরা বলছেন, মানবিক কাজে যদি দোকানিকে মাসুল দিতে হয় তাহলে এর বিরূপ প্রভাবে আর কেউ সহায়তার হাত বাড়াবে না।
প্রগতি মেডিকেল হলের পরিচালক সুদীপ্ত পাল  বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে অসহায় এক ভিক্ষুক তার কাছে এসে একটি  ভিটামিন সিরাপ ক্রয় করতে আসেন।কিন্তু তার কাছে ঔষধের নির্ধারিত মূল্যের অর্থ না থাকায় তাকে (Previncip compani. Primrol450ml.Mrp350) ভিটামিন সিরাপটি মানবিক কারণে  মাত্র ১শত টাকায় ওই অসহায় মানুষকে প্রদান করেন তিনি।
আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সমিতির নেতারা এক দিনের জন্য ফার্মেসী বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেন। শুধু তাই নয়,তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে বড় অংকের অর্থদণ্ড  করা হবে বলে হুশিয়ারি দেয় সমিতি কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয় কলাপাড়া কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগ এ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি মো ইব্রাহিম খলিল  বলেন, দোকান বন্ধ করতে সমিতি কোন নির্দেশনা দেয়নি। প্রগতি মেডিকেল হল ভেজাল ঔষধ বিক্রি করায় তার দায় স্বীকার করে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে। আর কাউকে দয়া দেখালে সে ঔষধ একেবারে ফ্রি দিবে।ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে সে ১০০ টাকা রেখেছে। তারা প্রায়ই কম দামে ভেজাল ঔষধ বিক্রি করে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ক্ষমতা কোন সংগঠনের আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে শুকৌসলে এরিয়েযান।
মেসার্স ফাতেমা মেডিকেল হলের সত্বাধিকারী মো, মোশাররফ হোসেন বলেন,কিছুদিন পূর্বে তার কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা  আদায় করেছে এই সমিতি কর্তৃপক্ষ। মূলত মোড়কে যেই মূল্য লেখা (এমআরপি) ওষুধগুলো ক্রেতাদের কাছে একটু কম দামে বিক্রি করার জন্য সমিতির কাছে বহুবার অনুরোধ করা হলে তারা কোনক্রমেই  ছাড় দিতে রাজি হন্নি।
এছাড়াও একাধিক ওষুধ দোকানীর অভিযোগ, সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে এক ধরনের জুলুম পরিচালনা করা হচ্ছে। এদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তাই সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অনেক দোকানী ও ভুক্তভোগীরা।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো, কাউসার হামিদ বলেন, কোন সমিতি বা সংগঠন কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ  করতে পারেনা। আর তার দোকানের ঔষধ সে কম দামে বিক্রি করবে না ফ্রীতে দিবে সেটা তার ব্যপার।আমি এখনি দেখছি, খোজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/