• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

সেই ব্রিজটিতে বাঁশ দেওয়ার সত্যতা পেয়েছে প্রশাসন

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি / ৪৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি ব্রিজ নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার ঘটনায় সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পেয়েছেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী। এ ঘটনায় ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মিত ব্রিজটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে পরিদর্শনে যান আগৈলঝাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন মঙ্গলবার ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় উত্তর প্রান্তে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি (চেরা) সংযুক্ত করে ঢালাই দেওয়া হয়। এ কাজটি স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার উদ্যোগে করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ব্রিজের ঢালাইয়ে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পেয়ে ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি তদন্ত শেষে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ব্রিজটির মূল কাঠামো গত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১ শতাংশ তহবিলের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। তবে তখন ঢালাই সম্পন্ন হয়নি। চলতি অর্থবছরে ঢালাইয়ের জন্য আবেদন এলেও এখনও কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেন এবং শেষ অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করেন।

বাঁশ ব্যবহারের কারণে ব্রিজটির কাঠামো ও ঢালাই যথেষ্ট মজবুত হয়নি। তাই উপরের স্লাপটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে ব্রিজটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসংঙ্গত, দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে পাঁচ ফুট প্রস্থের এই ব্রিজটির ঢালাই পুরুত ৫ ইঞ্চি হলেও বাস্তবে প্রায় সাড়ে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ৬ ইঞ্চি প্রস্থ পরপর রড দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রায় ১ ফুট পরপর রড ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ঢালাইয়ের সময় তারা বাধা দিলে ইউপি সদস্য অতিরিক্ত কিছু রড ও সিমেন্ট এনে কাজ চালিয়ে যান। পরে ব্রিজের উত্তর প্রান্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা জানান, খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ ফুট হলেও ব্রিজের ঢালাই দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৫ ফুট। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/