বরিশাল বিভাগে হাম সংক্রমণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের ছয় জেলায় দুই শতাধিক শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বিভাগের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বরগুনা জেলায়। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর। বরিশাল জেলা ও মহানগরীতে আক্রান্ত ৪৫ জন, মৃত্যু একজনের। ভোলায় আক্রান্ত ১৮ জন, মৃত্যু দুজনের। ঝালকাঠিতে আক্রান্ত ১৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর। পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলায় কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও দুই জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৬।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানান, বিভাগের সব জেলা ও উপজেলায় হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৭৮ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসা নিচ্ছে ১৯৬ শিশু। কোনো কোনো শয্যায় দুই থেকে তিনজন করে রোগী রাখা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ২৬ শিশু।
শয্যা সংকট ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশু ওয়ার্ডের একটি পৃথক কক্ষে ১৬ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ কে এম নজমুল আহসান জানান, সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়তে থাকায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে জ্বরকে সাধারণ জ্বর ভেবে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতার কারণে সংক্রমণ বেড়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক; আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। কোনো শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া, গলা ব্যথা, মুখে ঘা বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
https://slotbet.online/