স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়াকে ঘিরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম কিবরিয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়াকে অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা স্থগিত রেখে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, তিনি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।
নিয়োগের আগে তিনি এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এ নিয়োগের পর থেকেই প্রকৌশলী সংশ্লিষ্ট একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা। তাদের মতে, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া বলেন, “পূর্বেও কিছু দৈনিক পত্রিকায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। এসব ছিল অসাধু চক্রের সুপরিকল্পিত অপপ্রচার।” তিনি আরও বলেন, “কিছু স্বার্থান্বেষী মহল হীন উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত।”
তিনি গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সংবাদপত্র সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। প্রমাণহীন ও কাল্পনিক তথ্য প্রকাশ শুধু একজন কর্মকর্তার মানহানিই করে না, বরং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন করে।”
এদিকে এলজিইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন মহল এ ধরনের অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলজিইডিকে ঘিরে কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলেও অসন্তোষ রয়েছে।
পেশাগত জীবন
আব্দুর রশীদ মিয়া ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
তিনি কর্মজীবন শুরু করেন জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইবিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন।
দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি সহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে অপপ্রচার বন্ধে প্রয়োজন যথাযথ তদন্ত ও সত্য উদঘাটন।
https://slotbet.online/