ঈদের দিনেই অনুষ্ঠিত হলো মিরাজ ফকিরের জানাজা। একই আঙিনায় পাশাপাশি মাটির ঘরে শুয়ে আছেন বাবা- ছেলে।
যেখানে থাকার কথা ছিল কোলাকুলি, সেখানে আজ শুধু নীরবতা। যেখানে থাকার কথা ছিল উৎসবের হাসি, সেখানে আজ কান্নার শব্দও যেন থেমে গেছে।
মেঘনা তীরের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের চরখাগকাটা গ্রাম। যে গ্রামের বাড়িটিতে আজ ঈদের দিন মানুষের ভিড়, কিন্তু সেই ভিড়ে উৎসব নেই। আছে বিষাদের ছায়া, যে ছায়া গ্রাস করেছে পুরো গ্রামকে।
সকাল থেকেই স্বজন, প্রতিবেশী আর পরিচিতজনেরা জড়ো হয়েছেন শেষ বিদায় জানাতে। কারও হাতে সান্ত্বনার ভাষা নেই, চোখে জমে আছে দীর্ঘশ্বাস।
কয়েক দিন আগেও এই বাড়িতে ঈদের প্রস্তুতি চলছিল। ঢাকায় ট্যানারিতে কাজ করা মিরাজ ফকির প্রতিবছরের মতো এবারও ফিরছিলেন নিজের গ্রামে।
তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে সোহেল ফকির ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবি। বাড়ি ফেরার সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত হয়ে দাঁড়ায় জীবনের শেষ অধ্যায়।
রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় লঞ্চে ওঠার সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। দুই লঞ্চের চাপায় গুরুতর আহত হন ছেলে সোহেল ফকির। কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোহেলের সঙ্গে থাকা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার রুবি গুরুতর আহত অবস্থায় একই হাসপাতালের বেডে রয়েছেন। আর বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজ ছিলেন তার বাবা মিরাজ ফকির।
তিন দিন ধরে চলেছে মিরাজ ফকিরের জন্য অপেক্ষা। পরিবারের সদস্যরা কখনও হাসপাতাল, কখনও নদীর ঘাটে ছুটে গেছেন একটুখানি খোঁজের আশায়।
শেষ পর্যন্ত শুক্রবার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ভেসে ওঠে তার মরদেহ। এরপর ঈদের দিন শনিবার মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে।
সেই মরদেহের পাশেই বৃহস্পতিবার ছেলেকে দাফন করা হয়েছিল। মিরাজের জানাজার পর একই আঙিনায় পাশাপাশি শায়িত করা হয় বাবা ও ছেলেকে।
মাটির নিচে যেমন বাবা-ছেলে কাছাকাছি, তেমনি জীবনের শেষ মুহূর্তেও যেন একসঙ্গে থাকারই লেখা ছিল তাদের ভাগ্যে।
গ্রামের মানুষ বলছেন, এই বাড়িতে ঈদ মানেই ছিল আনন্দ, হাসি আর মিলন। কিন্তু এবার সেই চেনা দৃশ্য বদলে গেছে।
বছরের পর বছর ঢাকায় পরিশ্রম করে পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন মিরাজ ফকির। ছেলেকে নিয়ে তার স্বপ্ন ছিল আরও অনেক কিছু দেখার। সেই স্বপ্নের শেষ কোথায়, তা যেন এই নীরব আঙিনাই বলে দিচ্ছে।
ঈদের দিন, যখন চারপাশে আলো, আনন্দ আর নতুন পোশাকের উচ্ছ্বাস, তখন এই বাড়িতে শুধুই শোক। ঘরের আলো নিভে গেছে, থেকে গেছে শুধু স্মৃতি। আর সেই স্মৃতির ভিড়ে ছেলের পাশেই ঈদের দিন চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাবা।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনে ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে যাত্রী তুলার সময় সংঘর্ষ ঘটে। ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের জাকির সম্রাট ৩ লঞ্চটি এসে ধাক্কা দেয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লঞ্চের সামনের আঘাতে যাত্রীরা পিষ্ট হচ্ছেন। এক জন পানিতে পড়ে যান, আরেকজন লঞ্চের বাইরের অংশে পড়ে থাকেন। ছোট করে ১.৩০ সেকেন্ড এর ইমোশনাল ভয়েস ওভার স্কিপ্ট তৈরি করে দাও
নিউজ বানাও সম্পূর্ণ টা দিয়ে
https://slotbet.online/