পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বরিশালের বাজারে হঠাৎ করেই চড়েছে সব ধরনের মাংসের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে গরু, খাসি ও মুরগির দামে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবে একই সময়ে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে নগরীর বাংলাবাজার, সাগরদী বাজার, নতুন বাজার, চাঁদমারী, রুপাতলী, নথুল্লাবাদ ও পোর্ট রোডসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে মাংসের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮৫০ থেকে ৮৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৮০০ টাকা। খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। একইভাবে ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি ও লেয়ার মুরগি কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৩৩০ টাকায় উঠেছে। দেশি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি মুরগির খাদ্য ও বাচ্চার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাবাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, সরবরাহ খরচ বাড়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে সবজির বাজারে মিলেছে কিছুটা স্বস্তির চিত্র। শিম ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৩০-৬০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা ও শালগম ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৫০-৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও কমে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে।
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড বাজারের ক্রেতা আনিছুর রহমান বলেন, সবজির দাম নাগালের মধ্য থাকলেও ঈদের জন্য মাংশ কিনতে গিয়ে পরেছি বিপাকে। ৮০০ টাকার গরুর মাংশ আজ কিনতে হয়েছে ৮৮০ টাকায়। বাজেটের বাইরে গিয়ে বাজার করতে হয়েছে।
তবে মাংসের দাম বৃদ্ধিতে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বাজেট। ঈদের আগে এমন মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলছেন অনেক ক্রেতা। তাদের দাবি, বাজার তদারকি জোরদার না হলে উৎসবের আগেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
একই বাজারের মাংশের বিক্রেতা মো : রনি বলেন, চলতি সপ্তাহে পশুর হাটে গরু ও ছাগলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশি দামে কেনার কারনে বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
সবমিলিয়ে, ঈদকে সামনে রেখে বরিশালের বাজারে মাংসের দামে অস্থিরতা দেখা দিলেও সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি থাকায় আংশিক স্বস্তি পাচ্ছেন ভোক্তারা।
ভোক্তা অধিকার এর বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র বলেন, মাছ ও মাংশের বাজারে সরকার নির্ধারিত কোন দর নেই তাই ব্যবসায়ীরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। আমরা বাজারে মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি। মাংশের বাজার চড়া হলেও সবজির বাজার নমনিয় রয়েছে।
https://slotbet.online/