• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বরিশালের মিডিয়া পাড়ায় শোকের ছায়া বিএম কলেজে শায়েখে চরমোনাই জুলাই শহীদের স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত বরিশাল জামেয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (দাঃবাঃ) অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সু-খবর পেলেন ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বরিশালে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ১০ জেলে মেহেন্দিগঞ্জে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে হারিকেন মিছিল বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম মারা গেছেন ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন কে বাছাই, এসএসসিতে ফেল সবাই

গাছের শেকড়ে জড়িয়ে থাকা গায়েবী মসজিদ

স্টাফ রিপোর্টার / ১৩৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

প্রথম দেখায় মনে হয়, কোনো প্রাচীন স্থাপনাকে জড়িয়ে ধরেছে প্রকৃতি। বিশাল গাছের শেকড় ছাদ বেয়ে নেমে এসেছে মাটিতে। সেই গাছের বাকল আর লতাগুল্ম যেন আলতো করে আগলে রেখেছে মসজিদের ছোট্ট এক গম্বুজ। দূর থেকে দেখলে বোঝাই যায় না, ওটা আসলে একটি মসজিদ।

বরিশালের চর হোগলা গ্রামের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে এই অদ্ভুত স্থাপনা। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘গায়েবী মসজিদ’ নামে পরিচিত। আর সাইনবোর্ডে লেখা আছে, পর্তুগিজ আমলের পাঞ্জেগানা মসজিদ। অনেকেই মানত করে এখানে এসে নফল নামাজ আদায় করেন।

মসজিদটি এতটাই ছোট যে একসঙ্গে তিন-চারজনের বেশি মানুষ সেখানে নামাজ পড়তে পারেন না। তবু সময়ের স্তর জমে থাকা এই স্থাপনাকে ঘিরে রয়েছে বিস্ময়, কৌতূহল আর লোককথা। সবচেয়ে চোখে পড়ে গাছের শেকড়। মসজিদের চারপাশ ঘিরে থাকা পুরোনো গাছের শেকড় ধীরে ধীরে নেমে এসেছে দেয়াল ও ছাদের ওপর। গম্বুজের গায়ে আঁকড়ে ধরে আছে সেগুলো। যেন প্রকৃতি নিজেই মুঘল আমলের এই প্রাচীন স্থাপনাটিকে ধরে রেখেছে, যাতে সময়ের ধাক্কায় সেটি হারিয়ে না যায়।

স্থানীয়দের ভাষায়, এক সময় পুরো এলাকাই ছিল ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গলের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এই ছোট্ট মসজিদ। হঠাৎ করেই এটি নজরে আসায় স্থানীয়রা তাই এটিকে গায়েবী মসজিদ বলেন। সেই নামেই মসজিদটির পরিচিতি গ্রাম ছাড়িয়ে শহরে, এমনকি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সত্তরের দশকের শুরুতে এই জায়গা পুরোটাই জঙ্গল ছিল। গাছগাছালির ভিতরে মসজিদটা পড়ে ছিল। তখন মাঝে মাঝে কিছু মানুষ এসে এখানে পয়সা রাখত, আগরবাতি বা মোমবাতি জ্বালাত। পরে আমরা কয়েকজন মিলে জায়গাটা পরিষ্কার করি।’

পরিষ্কার করার পরই মসজিদটি ধীরে ধীরে মানুষের নজরে আসে। তবে ৮০’র দশকে স্থানীয়রা এটিকে পরিষ্কার করে নামাজ পড়ার উপযোগী করেন। যদিও জায়গা ছোট হওয়ায় এখানে নিয়মিত জামাতে নামাজ হয় না।

জাকির হোসেন নামের একজন মুসল্লি বলেন, ‘আমার বাবা মাঝে মাঝে এখানে নামাজ পড়তেন। এখনো আমরা কেউ জামাত না পেলে এখানে বসে নফল নামাজ পড়ে যাই।’

স্থাপনাটি খুবই ছোট। দৈর্ঘ্য ছয় ফুট, প্রস্থ পাঁচ ফুট, আর উচ্চতা প্রায় সাড়ে সাত ফুট। এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের দুই পাশে ছোট দুটি জানালা এবং পূর্বদিকে সরু একটি প্রবেশপথ রয়েছে। ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনিতে তৈরি এই স্থাপনাটি দেখে ইতিহাসবিদদের ধারণা, এটি সম্ভবত মোগল আমলের কোনো সময় নির্মিত হয়েছিল।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথ পাহারা দেওয়ার সময় পাহারাদারদের ইবাদতের জন্য এমন ছোট স্থাপনা তৈরি করা হতো। আবার কেউ কেউ মনে করেন, নির্জনে ইবাদত করার জন্য সুফি সাধক বা দরবেশদের জন্যও এ ধরনের মসজিদ নির্মিত হয়ে থাকতে পারে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারি কাস্টোডিয়ান আরিফুর রহমান। তিনি ইতিহাস ঘেটে বলেন, ‘এই ধরনের ছোট স্থাপনা বাংলাদেশে খুবই বিরল। দক্ষিণাঞ্চলে মোগলদের সময় পর্তুগিজ জলদস্যুদের সঙ্গে সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। সেই সময়কার প্রেক্ষাপটও এই ধরনের স্থাপনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।’

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ইতিমধ্যে মসজিদটি পরিদর্শন করে সংরক্ষণের সুপারিশ করেছে। স্থানীয়দেরও একই দাবি, গাছের শেকড়ে জড়িয়ে থাকা এই অদ্ভুত মসজিদটি যেন হারিয়ে না যায়। কারণ চর হোগলার নির্জন গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা এই ক্ষুদ্র স্থাপনাটি শুধু একটি মসজিদ নয়। সময়ের ভেতর থেকে উঠে আসা এক নিঃশব্দ ইতিহাস। প্রায় ৫০০ বছরের সেই ইতিহাসকে আজও আগলে রেখেছে প্রকৃতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/