নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম, দেশ ও মানবতার খেদমত—ফলাফল অনুকূলে না এলেও এতে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম।
নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, আদর্শিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। জনগণ যদি সেই খেদমত গ্রহণ না করেন, সেটিও তিনি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, হার-জিতকে তিনি রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখেন না; ইসলাম ও মানবতার কল্যাণে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য।
ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফয়জুল করিম বলেন, নির্বাচনের আগে মাঠে যে জনসমর্থন তিনি দেখেছেন, ঘোষিত ফলাফলের সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে নির্বাচন কমিশনের ভোট আয়োজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাহ্যিকভাবে সন্তোষজনক ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, বরিশালসহ কয়েকটি এলাকায় দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলুম ও গুন্ডাতন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করা জরুরি। মানুষের প্রত্যাশা নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র।’
ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতার রাজনীতি নয়, আদর্শের রাজনীতি করে। যারা ইসলামকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনীতি করতে চান, তারা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেই থাকবেন।
এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আসন কম পাওয়া গেছে—এ কথাও তিনি স্বীকার করেন। তবে আদর্শের প্রশ্নে কোনো আপস হয়নি বলে জানান। তার মতে, জোটভুক্ত হলে আসন বাড়তে পারত, কিন্তু আদর্শগত কারণে দল সে পথে যায়নি।
ভোটার ও নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিপুল অর্থ ও চাপের মধ্যেও সাধারণ মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়িয়েছেন। রিকশাচালক, দিনমজুরসহ অনেকেই কাজ বন্ধ রেখে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
তাদের সেই ত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেষে তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতায় যাবে না জেনেও যারা ইসলামের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তারাই সবচেয়ে সচেতন ও মূল্যবান ভোটার।’
ভবিষ্যতেও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ইসলাম ও মানবতার পক্ষে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
https://slotbet.online/