• মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইসলামের পক্ষে একটাই ভোটের বাক্স, সেটা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের: রেজাউল করীম ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইলেন ভুট্টোকে সমর্থন দিল জাতীয় পার্টি বরিশালের ছয়টি আসনে ধানের শীষের ছয়জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৩০ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্ধিতা আবুল খায়ের বিজয়ী হলে সকলের মুখে হাসি ফুঁটবে: চরমোনাই পীর নির্বাচনী এলাকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের অবস্থান নিষিদ্ধ জালিয়াতির ইচ্ছে থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়: হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসির চাঁদাবাজদের কবল থেকে মুক্ত পেতে হাতপাখায় ভোট দিন — মুফতী ফয়জুল করীম আমি নির্বাচিত হলে মেহেন্দিগঞ্জ আর অবহেলিত থাকবে না -রাজীব আহসান ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টায় শক্ত হাতে প্রতিরোধের আহ্বান জামায়াত আমিরের

ইসলামের পক্ষে একটাই ভোটের বাক্স, সেটা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের: রেজাউল করীম

স্টাফ রিপোর্টার / ৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশে ইসলামের পক্ষে একটাই ভোটের বাক্স আর সেটা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা পার্কে বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) আসনের দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এছহাক মো. আবুল খায়েরের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করীম এ কথা বলেন। জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘একটা দলের আমির আমাকে বলেছিলেন, মেহেন্দীগঞ্জের এই আসনে নাকি তাঁদের ভোটের ডিব্বা আছে। কিন্তু আজকের এই সমাবেশের উপস্থিতি দেখে বুঝতে পারলাম, সেই ডিব্বা খালি না ভরা। আর কেউ যদি নিজেদের ইসলামের পক্ষে বাক্স দাবি করে, সেই দাবি করার অধিকার তাদের নেই। তাই সবার কাছে আহ্বান, বিশেষ করে নতুন ভোটার সেই তরুণ-যুবকদের কাছে আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই, তোমরা জীবনের প্রথম ভোটটি ইসলামের পক্ষে দেবে—এই শপথ আজ তোমাদের নিতে হবে।’

১৯৮৭ সালে ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে রেজাউল করীম বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। যদি করতাম, তাহলে অনেক আগেই আমরা এমপি-মন্ত্রী হতে পারতাম। আমি কখনো নির্বাচনে প্রার্থী হইনি। কিন্তু সারা দেশ আমি ঘুরেছি ইসলামি হুকুমত কায়েম করার জন্য, সোনার দেশ গড়ার জন্য। আমরা চাই বাংলাদেশ হবে ইনসাফের দেশ, কল্যাণের রাষ্ট্র। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য, অন্যায়–অবিচার ও দেশের টাকা পাচারের সংস্কৃতি থাকবে না। সকল ধর্ম-মতের মানুষ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সমান অধিকার নিয়ে বাঁচবে। আমাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্যই হলো এটা। আর এ জন্য এবার আপনাদের ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি শান্তিময় দেশ গড়ার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়নি। বারবার নির্বাচন হয়েছে, নেতা বদল হয়েছে, কিন্তু মানবিক মর্যাদা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়নি।

দেশে মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি উল্লেখ করে ফয়জুল করীম বলেন, অনেক নেতা আছেন কুকুর-বিড়াল কোলে নিয়ে ছবি তুলে আনন্দ পান। কিন্তু এক কুলি, মজুর, খেটে খাওয়া মানুষের কাঁধে হাত দিয়ে ছবি তুলতে লজ্জা পান। তার মানে দেশে মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সামগ্রিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়নি। কিন্তু এর জন্য মানুষ সংগ্রাম করেনি, জীবন দেয়নি। যখন তাঁরা ক্ষমতায় থাকে, তখন অন্যায় করলেও খালাস, আর ক্ষমতায় না থাকলে অন্যায় না করলেও মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়, জুলুমের শিকার হতে হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংগ্রাম হলো এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

জামায়াতের উদ্দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির বলেন, ‘যদি কেউ জামায়াতকে জামায়াত হিসেবে ভোট দিতে চায়, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যদি ইসলমি দল হিসেবে জামায়াতকে ভোট দিতে চায়, তাহলে আমার ঘোর আপত্তি আছে। যারা ইসলামি শরিয়াহ আইন কায়েম করতে চায় না, যাদের ইশতেহারে ইসলামের কথা নেই, তারা কোনোভাবেই ইসলামের নামে ভোট কালেকশন করতে পারে না। জামায়াতের সৃষ্টির পর থেকে স্লোগান ছিল—আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই। কিন্তু এখন তারা যে পলিসি গ্রহণ করেছে তা সম্পূর্ণরূপে ভুল। জামায়াত বলে, তারা আস্তে আস্তে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে—এটা সম্পূর্ণ শুভংকরের ফাঁকি। তারা যদি সংসদে দাঁড়িয়ে ইসলামের পক্ষে কথা বলে, তাহলে এক সেকেন্ডও তারা টিকতে পারবে না।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ এছহাক মো. আবুল খায়ের ও স্থানীয় নেতারা। জনসভা শেষে মুফতি রেজাউল করীম দলীয় প্রার্থীর হাতে দলের প্রতীক হাতপাখা তুলে দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/