বরিশাল ৫ সদও আসনের হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর নগদ অর্থ ও সম্পদেও পরিমান বেড়েছে অস্বাভাবাবিক। তবে সম্পদ ও আয়ে ফয়জুল করীমের চেয়ে এগিয়ে মজিবর রহমান সরোয়ার।
মহানগর ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল- ৫ বিভাগে মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে সম্ভ্যাব্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিবেচিত হলেন বিএনপির মো: মজিবর রহমান সরওয়ার ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী সৈয়দ মো: ফয়জুল করিম। দুজনেই নিজ দলের হেভিওয়েট প্রার্থী। বিশেষ করে মুফতি ফয়জুল ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা। এর আগে ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই দুজন বরিশাল- ৫ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন।
এবছর দেয়া হলফনামার সঙ্গে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের হলফনামার বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, দুজনেরই নগদ অর্থ ও অনান্য আয় কয়েকগুন বেড়েছে। তবে মুফতি ফয়জুলের স্ত্রীর স্বর্ণের পরিমান বেড়েছে অস্বাভাবাবিক। তবে এবারের তুলনায় ২০১৮ সালে সরোয়ারের আয় বেশী ছিলো। সম্পদ ও আয়ে ফয়জুলের চেয়ে সরোয়ার এগিয়ে।
এবার দেয়া হলফনামায় ফয়জুলের স্ত্রীকে ১৮৭ ভারি স্বর্ণের মালিক দেখানো হয়েছে। যার পুরাটা উপহার পেয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সালে স্ত্রীর মালিকানায় ১০ ভরি স্বর্ণ দেখানো হয়েছিলো। যার মুল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। আবার ২০১৮ সালের হলফনামায় স্ত্রীর মালিকানায স্বর্ণ দেখানো হয়নি। তখন উল্লেখ করা হয় ফয়জুলের মালিকানায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮২ টাকা মূল্যের স্বর্ণ রয়েছে।
২০০৮ সালের হলফনামায় ফয়জুল নিজেকে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন। তখন তার বার্ষিক আয় দেখানো হয় বাড়ি ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা, কৃষিখাতে ১৫ হাজার, ব্যবসায় ২০ হাজার ও দাওয়াতের হাদিয়া ৫০ হাজার টাকা। তিনি পৌনে ৯ লাখ মূল্যের ৫ একর কৃষিজমি এবং ৩ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমির মালিক ছিলেন। নগদ টাকা ছিলো মাত্র ২০ হাজার।
এবারের নির্বাচনী হলফনামায় ফয়জুল পেশা দেখিয়েছেন শিক্ষকতা ও দাওয়াত এবং তার স্ত্রী গৃহিনী ও ব্যবসায়ী। ২০১৮’র হলফনামাও স্বামী-স্ত্রীর একই পেশা দেখানো হয়।
এবারে স্বামী-স্ত্রীর আয় অনেক বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী ফয়জুলের অর্জনকালীন সম্পদের মুল্য ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকা। তিনি শিক্ষকতা পেশায় ৭ লাখ ৬ হাজার ও মাহফিলের হাদিয়া বাবদ ৪ লাখ টাকা আয় করেন। ভাড়া বাবদ আয় ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। এবার তার স্ত্রীর নগদ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকাসহ অর্জিত সম্পদের বর্তমান মুল্য ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে নগদ ২০ হাজার টাকা মালিক ফয়জুলের এখন নগদ আছে ৩১ লাাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা। ২০১৮ সালের হলফনামায় তার নগদ ছিলো ৫ লাখ ও ব্যাংকে জমা ছিলো সাড়ে ৭ লাখ টাকা। এবছর তার ব্যাংকে জমা আছে ১ হাজার ১৭৬ টাকা।
গত ৩টি নির্বাচনে ফয়জুল কোন মামলার আসামী ছিলেন না। এর আগে ৩টি মামলায় আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। তার লাইসেন্সকৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে।
অন্যদিকে বিএনপির মজিবর রহমান সারওয়ার সম্পদ, নগদ আয় ও মামলার সংখ্যাসহ সবক্ষেত্রে ফয়জুলের চেয়ে এগিয়ে। নিজেকে ব্যবসায়ী ও কৃষিখাতে আয় দেখানো সরোয়ার এবছরের হলফনামার তথ্যানুযায়ী, তার বার্ষিক আয় কৃষিখাতে ২ লাখ, বাড়িভাড়া ১০ লাাখ ৫০ হাজার ও ব্যবসায় ৬ লাখ ও ব্যাংক আমানত ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকা। কমফোটি লিভিং লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী পান ১২ লাখ টাকা। তার নগদ অর্থ আছে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার ৯৮৪ টাকা। আগে ক্রয় করা শেয়ারেরর বর্তমান মুল্য ৮৫ লাখ ও সঞ্চয়পত্র ৯৫ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ আর্থ বছরে আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সরোয়ারের সম্পদের পরিমান ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৬০২ টাকা।
ফয়জুলের তুলনায় সারওয়ার স্বণলংকারে পিছিয়ে রয়েছেন। এবার এবং ২০১৮ সালের হলমনামার তথ্যানুযয়ী সারওয়া মাত্র ৫০ তোলা স্বর্ণের মালিক। তার স্ত্রীর স্বর্ণ নেই। তবে ২০০৮ এর হলফনামা অনুযায়ী সারওয়ার ৫০ ভরি ও স্ত্রী ৩০ ভরি স্বর্ণের মালিক ছিলেন। মোট ৮০ ভরি স্বর্ণ তারা উপহার হিসাবে পেয়েছিলেন।
২০১৮’র তথ্য অনুযায়ী সরওয়ারের আয় ছিলো কৃষিখাতে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ১২ লাাখ ৩ হাজার টাকা, ব্যবসায় ১০ লাখ টাকা, সম্মানি ভাতা ২৪ লাখ এবং ব্যাংক আমানত বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৮৮ টাকা। তখন তার নগদ অর্থ ছিলনা। ব্যাংকে ছিলো ১০ লাখ টাকা।
২০০৮ সালে তার আয় ছিলো কৃষিখাতে ৩০ হাজার. বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ব্যাংক বন্ড ছিলেনা। নগদ আর্থ ছিলো ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৫০ টাকা ও ব্যাংকে ছিলো ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮১৩ টাকা। গৃহীনি স্ত্রীর নগদ ছিলো ১ লাাখ ৮৪ হাজার ও ব্যাংকে জমা ছিলো ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৯ টাকা।
সারওয়ার এখনও বিচারাধীন ৯টি মামলার আসামী। এর আগে ১৪টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। যারমধ্যে দুটি হত্যা মামলা ছিল্ োতার আগ্নেয়াস্ত্র আছে ৩টি।
https://slotbet.online/