• শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশাল সদর থানা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক এম.কে. জুনায়েদ, সদস্য সচিব আরাফাত ইসলাম তাসফিম বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পাওয়া আবুল কালাম আজাদের পদায়ন আদেশ বাতিল। জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল সদর থানা শাখার আংশিক কমিটি অনুমোদন সাংবাদিক এম.মিরাজ হোসাইনের স্মরণে বরিশাল প্রেস ক্লাবে আলোচনা ও দোয়া সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বরিশালের মিডিয়া পাড়ায় শোকের ছায়া বিএম কলেজে শায়েখে চরমোনাই জুলাই শহীদের স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত বরিশাল জামেয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (দাঃবাঃ) অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সু-খবর পেলেন ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বরিশালে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ১০ জেলে

বরিশালে এইডস আক্রান্তের হার বাড়ছে

এম.মিরাজ হোসাইন  / ২৩৩ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

বরিশাল বিভাগে এইচআইভি, এইডস আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে বরিশাল বিভাগে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আগের বছর আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ১৬ জন। ফলে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে ১৬০ জন।
এদিকে বরিশাল বিভাগে গত এক বছরে এইচ আইভি এইডস আক্রান্ত ২ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এদেও একজন বরিশাল সদর উপজেলার প্রবাসী ও অপর জন বাবুর্চীর পেশায় যুক্ত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬০ জন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই বরিশাল সদর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলায় বসবাস করেন।
এআরটি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম এ্যাডমিনেস্টেশন মো: আবু তাহের বলেন, সমকামিতা, ইনজেকটিভ মাদক ব্যবহার, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, সচেতনতার অভাব, নিয়মিত পরীক্ষা না করার কারননেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার প্রধান কারণ। এছাড়া আক্রান্তদের অনেকেই সামাজিক লজ্জা বা অপবাদ এড়াতে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন না। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগের জটিলতা বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি প্রোগ্রামের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন হচ্ছে ১৮ থেকে ২৮ বছরের যুবসমাজ। এদের মধ্যে আক্রানেতর হার বেশি। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ ভাগ। এরা পরীক্ষা ও সেবায় এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। নিয়মিত কাউন্সেলিং ও পরীক্ষা বাড়াতে হবে।
এইচ আইভি এইডস্ নিয়ে কাজকরা স্থানীয় এনজিও আভাস এর নির্বাহী পরিচারক রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা কম। তাই তরুণ সমাজ ও বিদেশফেরত শ্রমিকদের মাঝে স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
স্বাস্থ্যকর্মীরা মনে করছেন, বরিশাল বিভাগে এইডস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরীক্ষা, নিরাপদ জীবনাচরণ এবং আক্রান্তদের প্রতি ইতিবাচক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। নচেৎ পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার এক যুবক পরিবারের তাগিদে ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করে। চাকরি হলে মেডিকেল টেস্টের জন্য পাঠায়। তখন ধরা পরে তিনি এইচআইভি পজেটিভ। চাকুরীতে যোগদান করতে না পারায় বাড়ী ফিরে আত্মহত্যার চেষ্টাকরে। পরে পরিবারের অপর দুই ভাই এই বিষয় জানতে পেরে প্রশ্ন তোলেন ওর এই রোগ আসলো কো থেকে? পরে তারা ওকে ভিন্ন উপায়ে পরিবার থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে স্থানিয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক তাদের বরিশালে শেবাচিম হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের পাঠান। এখানে আসার পর রোগী ও তার পরিবারের সকলকে কাউন্সিলি করে বোঝাতে সক্ষম হয় এটি নিয়ে আতংকিত নয় নিয়মিত ঔষধ সেবনে রোগী ভালো থাকে। তাছাড়া এটি জোয়াছে রোগ নয়। তখন তারা এই সেন্টার থেকে ঔষধ নিয়ে বাড়ী ফিরেছেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/